বিশেষ প্রতিনিধি, আগরতলা: ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ত্রিপুরায় সরকারি চাকরিতে মোট ২২ হাজার ৩৬৫টি নিয়মিত নিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। বিধানসভায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়।
বিধানসভায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে গ্রুপ ‘সি’ ও গ্রুপ ‘ডি’ মিলিয়ে মোট ১,১৭০ জনকে নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে এই সংখ্যা ছিল ১,০৮৩। কোভিড পরিস্থিতির কারণে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে নিয়োগের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬৮০-তে।
এরপর সরকারি নিয়োগে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে মোট ৩,০০২ জন, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ৩,৭০৯ জন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ৩,৮১১ জনকে নিয়মিত চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সর্বোচ্চ ৪,০৯৯ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৩,২৯১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের রেকর্ড অনুযায়ী ইতিমধ্যে আরও ১,৫২০ জনকে নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৬-২৭ পর্যন্ত গ্রুপ ‘এ’-তে ৮৭৭ জন, গ্রুপ ‘বি’-তে ১,১৪৩ জন, গ্রুপ ‘সি’-তে ১৬,৮৩৩ জন এবং গ্রুপ ‘ডি’-তে ৩,৫১২ জন—মোট ২২,৩৬৫ জন নিয়মিত নিয়োগ পেয়েছেন।
মন্ত্রী আরও জানান, টিপিএসসি (TPSC)-র সুপারিশ ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে কৃষি অফিসার, মেডিকেল অফিসার এবং অধ্যাপকসহ আরও ৩৭৪টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। ফলে আগামী দিনে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিংয়েও নিয়োগ
নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগার কারণে সরকারি পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। বিধানসভায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে ১৪,০৮৪ জন এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২৬,২২৮ জনকে কাজে নিয়োগ করা হয়েছে।
মেধা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর
সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের স্বচ্ছতার সঙ্গে চাকরি দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে পদোন্নতি সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কর্মীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল বলেও বিধানসভায় উল্লেখ করা হয়।