Home আগরতলামুদ্রা ঋণে ত্রিপুরার মহিলা উদ্যোগপতির সাফল্য, প্রশংসায় নির্মলা সীতারামন

মুদ্রা ঋণে ত্রিপুরার মহিলা উদ্যোগপতির সাফল্য, প্রশংসায় নির্মলা সীতারামন

by Debasish
0 comments 10 views

ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান পাঁচজনের

আগরতলা, ১৮ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার (PM MUDRA) সুবিধাভোগীদের নিয়ে জাতীয় স্তরের এক আলোচনায় ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের (TGB) প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়ার মহেশপুরের মহিলা উদ্যোগপতি বুল্টি দেবনাথ দত্তের ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বিশেষভাবে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ সহায়তার প্রশংসা করেন।

আলোচনায় বুল্টি জানান, তাঁর এবং তাঁর স্বামীর উদ্যোগে ২০১৭ সালে সিমেন্ট ও রড-ভিত্তিক নির্মাণসামগ্রীর কারখানা শুরু হয়। ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যেতে ২০১৯ সালে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নেন তিনি। সেই ঋণ পরিশোধের পর ২০২৩ সালে ফের ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। পরবর্তীতে ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকায় ২০২৪ সালে ব্যাংকের মাধ্যমে ৭ লক্ষ টাকার মুদ্রা ঋণ পান।

বুল্টির বক্তব্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত মূলধনের সাহায্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত পাঁচজন কর্মীকে কাজে নিয়োগ করতে সক্ষম হন তিনি। ব্যবসার প্রয়োজনে একটি গাড়িও কেনেন। বর্তমানে আরসিসি পিলার, ফিল্টার, ভেন্টিলেটর-সহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নিজের গাড়িতে করে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। ঋষ্যমুখ ব্লকের ১০ থেকে ১২টি পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন প্রকল্প, এমনকি মনরেগা-সংক্রান্ত কাজেও তাঁর উৎপাদিত সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বুল্টি জানান, বর্তমানে তিনি একক মা হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি দুই মেয়ে ও শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা করছেন। উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক এবং ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বুল্টির সাফল্যের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, মুদ্রা ঋণ শুধুমাত্র প্রচলিত ধরনের ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক কীভাবে একজন মহিলাকে তুলনামূলকভাবে ভিন্ন ধরনের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে, তা তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ব্যাংকটি মানুষের পাশে “কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে” দাঁড়াচ্ছে। একজন মহিলা কীভাবে প্রথমে ছোট অঙ্কের ঋণ নিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন, গাড়ি কিনেছেন এবং নিজেই বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন—সেই যাত্রাপথও তিনি তুলে ধরেন।

সীতারামন আরও বলেন, ব্যাংকগুলির ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে, কীভাবে প্রান্তিক স্তরে উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান এবং জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধিতে ঋণকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।

বুল্টির সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি আন্তরিক প্রশংসা জানাতে চাই।”

ত্রিপুরায় কার্যরত আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকগুলির অন্যতম ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই ব্যাংকটি গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সহায়তা দিয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার আওতায় ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিকে জামানতবিহীন প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ দেওয়া হয়। মুদ্রা ঋণের ‘তরুণ’ (Tarun) শ্রেণিতে ৫ লক্ষ টাকার বেশি থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।

You may also like

Leave a Comment