Home আগরতলাফরেনসিক প্রমাণ ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা নিয়ে এনএলইউ ত্রিপুরায় কর্মশালা

ফরেনসিক প্রমাণ ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা নিয়ে এনএলইউ ত্রিপুরায় কর্মশালা

by Debasish
0 comments 5 views

অপরাধ তদন্তে বিজ্ঞানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ, ফরেনসিক প্রমাণের আইনি গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আলোচনা

আগরতলা, ১৮ সেপ্টেম্বর: অপরাধ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এই বিষয়কে সামনে রেখে শুক্রবার ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি ত্রিপুরা (NLUT) এবং ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (NFSU), ত্রিপুরা ক্যাম্পাসের যৌথ উদ্যোগে একদিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। “Forensic Evidence and the Indian Criminal Justice System” শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় এনএলইউ ত্রিপুরা ক্যাম্পাসে।

কর্মশালায় আইন ও ফরেনসিক বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। অপরাধ তদন্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ব্যবহার, তার গুরুত্ব এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় ফরেনসিক প্রমাণের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনএলইউ ত্রিপুরার উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) যোগেশ প্রতাপ সিং। তিনি আইনজীবী ও আইনের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ফরেনসিক প্রমাণের ব্যবহারিক এবং আইনি—উভয় দিক সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

এরপর এনএফএসইউ ত্রিপুরা ক্যাম্পাসের ক্যাম্পাস ডিরেক্টর ড. এইচ. কে. প্রতিহারি “Forensic Evidence Detected in Crime & Some Interesting Case Studies” শীর্ষক কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন। বিভিন্ন মামলার উদাহরণ তুলে ধরে অপরাধ তদন্তে ফরেনসিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করেন তিনি।

এরপর এনএফএসইউ ত্রিপুরা ক্যাম্পাসের প্রফেসর অব প্র্যাকটিস বি. বাদোনিয়া “Some Controversial Case Studies of Forensic Relevance” শীর্ষক অধিবেশনে ফরেনসিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে এমন বিভিন্ন মামলার বিষয়ে আলোচনা করেন।

কর্মশালার শেষ কারিগরি অধিবেশনে “Forensic Evidence in the Indian Criminal Justice System: Admissibility, Evidentiary Value and Judicial Interpretation” বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখেন এনএলইউ ত্রিপুরার রেজিস্ট্রার (আই/সি) ড. জয়ন্ত ধর। আদালতে ফরেনসিক প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা, প্রমাণ হিসেবে তার মূল্য এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় আদালত কীভাবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ব্যাখ্যা করে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কারিগরি অধিবেশনগুলির পর একটি ইন্টার‌্যাকটিভ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বক্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং ফরেনসিক প্রমাণের বিভিন্ন ব্যবহারিক ও আইনি দিক নিয়ে প্রশ্ন ও আলোচনা করেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এনএলইউ ত্রিপুরার পিএইচডি স্কলার সুচিত্রা ত্রিপুরা। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।

এই কর্মশালা আইন ও ফরেনসিক বিজ্ঞানের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। একইসঙ্গে ভারতীয় ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক প্রমাণের ভূমিকা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও কর্মশালাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

You may also like

Leave a Comment