আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরায় বালু উত্তোলন ও তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বালু উত্তোলন সংক্রান্ত কার্যক্রমের প্রধান দায়িত্ব বন দফতরের পরিবর্তে শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের পর আগরতলার খেজুরবাগানস্থিত শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের অধিকর্তার কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বালু উত্তোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন থেকে শিল্প ও বাণিজ্য দফতর এবং তার অধীনস্থ অধিকর্তার কার্যালয় দেখভাল করবে। এর মধ্যে বালু উত্তোলনের জন্য আবেদন গ্রহণ, অনুমতির নবীকরণ বা মেয়াদ বাড়ানো, মাইনিং প্ল্যান অনুমোদন এবং মাইনিং লিজ ও সংশ্লিষ্ট দলিল সম্পাদনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়াও বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক বিষয় নতুন ব্যবস্থার আওতায় আসবে। ফলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত বর্তমান লিজধারী, আবেদনকারী, সম্ভাব্য ব্যবসায়ী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের এখন থেকে তাঁদের কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে শিল্প ও বাণিজ্য দফতর অথবা শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের অধিকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম, নির্দেশিকা এবং সরকারি আদেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় বালু উত্তোলনের নিয়মিত অনুমতি ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বন দফতর আর সংশ্লিষ্ট সক্ষম কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে না। তবে বন দফতরের নিজস্ব আইনগত এখতিয়ারের আওতায় থাকা বিষয়গুলি কিংবা রাজ্য সরকার পৃথকভাবে যে দায়িত্ব বন দফতরকে অর্পণ করবে, সেগুলি আগের মতোই বন দফতরের আওতায় থাকবে।
প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের বিষয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় যাতে কোনও ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি না হয় এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ত্রিপুরায় বালু উত্তোলনের প্রশাসনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এল। এখন থেকে এই ক্ষেত্রের প্রধান প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের অধীনে পরিচালিত হবে।