আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর: আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ও তিপ্রা মথার রাজনৈতিক সমঝোতার তীব্র সমালোচনা করল সিপিআই(এমএল)। শনিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির রাজ্য সম্পাদক পার্থ কর্মকার ভোটারদের কাছে বিজেপি-মথার কথিত ‘সমঝোতার রাজনীতি’ প্রত্যাখ্যান করার আবেদন জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে পার্থ কর্মকার অভিযোগ করেন, ত্রিপুরার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পেছনে বিজেপির ‘বিভাজন ও প্রতারণার রাজনীতি’ কাজ করছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যেই বিজেপি বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সমস্যার মুখে পড়েছে এবং সেই কারণেই ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করার পরিবর্তে তিপ্রা মথার সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। ত্রিপাক্ষিক চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, পাহাড়ে রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে এই বোঝাপড়া তৈরি হচ্ছে।
বিজেপি-মথার সম্ভাব্য সমঝোতাকে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করে CPI(ML) রাজ্য সম্পাদক ভোটারদের এই ধরনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচন শুধুমাত্র দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জমির অধিকার, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান, স্বশাসন, ভাষা, সংস্কৃতি এবং সাংবিধানিক অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এই সমস্ত ইস্যুকে সামনে রেখেই ভোটারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিজেদের মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানান পার্থ কর্মকার। পাশাপাশি তিপ্রা মথার নেতা প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং সেটিকে ‘সুযোগসন্ধানী রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেন।
পার্থ কর্মকার জানান, আসন্ন নির্বাচনে বামফ্রন্টের অংশ হিসেবে CPI(ML) পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ওই পাঁচটি আসনের ভোটারদের NDA জোটকে পরাজিত করার আহ্বানও জানান তিনি।