দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের
আগরতলা, ৩১ আগস্ট: সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে সরব হল ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। সাংবাদিকদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সোমবার রাজ্যের আটটি জেলাতেই একযোগে কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকদের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ছয় দফা দাবিসংবলিত স্মারকপত্র তুলে দেওয়া হয়।
সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছে সংগঠনটি। এবার নিয়োগপত্র, বেতন, পেনশন, পূজা বোনাস, সামাজিক সুরক্ষা এবং আবাসনসহ একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সংগঠনের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
প্রথমত, সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সকল সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীকে সবেতন নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, দুর্গাপূজার অন্তত এক মাস আগে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের জন্য ৮.৩৩ শতাংশ হারে পূজা বোনাস নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, সরকার ঘোষিত বর্তমান মাসিক সাংবাদিক পেনশন ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।
চতুর্থত, EPF, ESI, বেতনক্রম, বোনাসসহ সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে।
পঞ্চমত, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিভিন্ন কমিটিতে ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ষষ্ঠত, গৃহহীন সাংবাদিকদের জন্য সরকারি কোয়ার্টার অথবা সরকারি জমির ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছে সংগঠনটি।
এদিন পশ্চিম জেলার জেলা শাসক ড. বিশাল কুমারের হাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি সংবলিত স্মারকপত্র তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা শাসক তাঁদের দাবিগুলি মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সংগঠনের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের দাবিগুলি নিয়ে রাজ্য সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তবে দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য, সাংবাদিকরা প্রতিদিন মানুষের সমস্যা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরলেও তাঁদের নিজেদের কর্মজীবন ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ছয় দফা দাবি নিয়ে এই কর্মসূচি বলে জানানো হয়েছে।