আগরতলা, ২১ আগস্ট: গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে শূকর পালনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে শূকর পালন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে তিনি জানান।বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞা ভবনে আধুনিক শূকর পালন পদ্ধতি নিয়ে আয়োজিত সেমিনার ও কর্মশালার উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল। পরে তিনি শূকর পালন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন এবং বিজ্ঞানী, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল জানান, ত্রিপুরায় বছরে প্রায় ৫৯.২০ হাজার মেট্রিক টন মাংস উৎপাদিত হয়। রাজ্যে মাথাপিছু বার্ষিক মাংসের ব্যবহার প্রায় ১৪.১৫ কেজি। এই মাংস উৎপাদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে শূকর থেকে। ফলে শূকর পালন রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।রাজ্যপাল বলেন, বর্তমানে যাঁরা আধুনিক পদ্ধতিতে শূকর পালন করছেন, তাঁদের শুধু কৃষক হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁরা গ্রামীণ উদ্যোক্তা এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, আর্থিক সহায়তা এবং কৃষকদের উদ্যোগকে সমন্বিত করে প্রাণিসম্পদ পালনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে।শূকর পালনের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এই পেশাকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী সুধাংশু দাসও কৃষকদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পশুপালকদের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প ও সহায়তা চালু করেছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শূকর পালন করলে এটি কৃষকদের জন্য আরও লাভজনক জীবিকার উৎস হয়ে উঠতে পারে।‘উদ্ভাবনী ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অগ্রণী শূকর পালনকারীদের ক্ষমতায়ন’—এই মূল ভাবনাকে সামনে রেখে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতর, অল ইন্ডিয়া কো-অর্ডিনেটেড রিসার্চ প্রজেক্ট এবং ন্যাশনাল লাইভস্টক মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় শূকরের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ, বৈজ্ঞানিক প্রজনন ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা, খামার পরিচালনা, পশুখাদ্য এবং বাজারজাতকরণ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন।অনুষ্ঠানে আধুনিক শূকর পালনের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে প্রদর্শনীর পাশাপাশি একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়। সফলভাবে শূকর পালনকারী ১০ জন কৃষক ছাড়াও অগ্রণী পোলট্রি খামারি ও অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সম্মানিত করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিব প্রভু স্বাগত বক্তব্য রাখেন। দফতরের অধিকর্তা ডা. এন. কে. চঞ্চল ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে শূকর পালনকে শুধু প্রচলিত পশুপালন হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার বার্তা উঠে আসে।
7