আগরতলা, ৩১ আগস্ট : প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআই(এম) নেতা মানিক সরকারের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার বিস্তারিত তথ্য বিধানসভায় তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। সোমবার বিধানসভায় বিধায়কদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মামলার ধারা, অভিযোগের বিষয়বস্তু এবং তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট আগরতলা থানায় ২০২৬ সালের ১০৯ নম্বর মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৯২, ৩৫৩(১)(বি) এবং ৬১(১) ধারায় তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
১০ জুলাইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে অভিযোগ
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ১০ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আগরতলার হরিগঙ্গাবাসাক রোড এলাকায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ, ওই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার কথা বলেন এবং ১১ দফা দাবি পূরণ না হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর রূপ নেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অভিযোগে তাঁর বক্তব্যের একটি অংশকে কেন্দ্র করে ‘জঙ্গি আন্দোলনের পথে’ যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে। এই বক্তব্যকে ঘিরেই পরবর্তীতে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
১৬ আগস্ট দায়ের হয় অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট ২০২৬ অভয়নগরের বাসিন্দা প্রবীর রায় এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ওয়েস্ট আগরতলা থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি হিসেবে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রকাশ্য বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি কিংবা শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাঁচ থানার জিরো এফআইআর মূল মামলায় যুক্ত
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, একই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের কল্যাণপুর, বিশালগড়, খোয়াই, তেলিয়ামুড়া এবং কদমতলা থানাতেও পৃথকভাবে জিরো এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছিল।
পরবর্তীতে ওই এফআইআরগুলিকে ওয়েস্ট আগরতলা থানায় নথিভুক্ত মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তদন্ত চলছে
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বিধানসভায় স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।