‘বারবার পথ অবরোধে দুর্ভোগ আমজনতার’
আগরতলা,৩১ আগস্ট : আত্মসমর্পণকারী উগ্রপন্থীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় এবং ঘনঘন জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ নিয়ে সোমবার ত্রিপুরা বিধানসভায় সরব হলেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। তাঁর অভিযোগ, পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে স্পষ্টতা ও সমন্বয়ের অভাবের কারণে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রঞ্জিত দেববর্মা দাবি করেন, ২ মে ২০২৬ একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাকেশ দেববর্মা স্বরাষ্ট্র সচিব, মুখ্য সচিব, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ডিরেক্টরের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজনের বাংলাদেশে চলে যাওয়ার অভিযোগসহ একাধিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চিঠির প্রসঙ্গ তুলে বিধায়ক প্রশ্ন তোলেন, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে কেউ যদি দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়ে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ এবং আত্মসমর্পণের সময় অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এগুলি চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগ বলেই বিধায়ক উল্লেখ করেন।
পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় বিভাজনের অভিযোগ
রঞ্জিত দেববর্মার আরও অভিযোগ, আত্মসমর্পণকারী বিভিন্ন সংগঠন বা গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, কিছু গোষ্ঠীকে বৈঠকে ডাকা হলেও অন্যদের বাদ দেওয়ার ফলে অসন্তোষ বাড়ছে।
তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। কিন্তু বৈঠক ও আমন্ত্রণের বিষয়ে পর্যাপ্ত স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
‘ঘনঘন অবরোধে দুর্ভোগ সাধারণ মানুষের’
বিধানসভায় পথ অবরোধের প্রসঙ্গও জোরালোভাবে তুলে ধরেন রঞ্জিত দেববর্মা। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ঘনঘন জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের ফলে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। শুধুমাত্র আশ্বাস দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্রের কাছে পাঠানো প্যাকেজ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব নিয়েও অসঙ্গতি এবং কিছু ব্যক্তির বাদ পড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে বিধানসভায় উল্লেখ করেন তিনি।
স্থায়ী সমাধানের দাবি
রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং দাবি-দাওয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। একইসঙ্গে জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের মতো পরিস্থিতি যাতে বারবার তৈরি না হয়, তার জন্য সরকারকে স্থায়ী সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানান তিনি।