6
আগরতলা, ১৮ আগস্ট : আমাদের সমাজে প্রবীণ নাগরিকরা সত্যনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের জীবন্ত ধারক। তাঁদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও অবদান আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য সম্পদ। আমাদের বর্তমান সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গেই মানুষের কল্যাণে কাজ করছে।
আজ অরবিন্দ ক্লাবের উদ্যোগে দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস ও ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রবীণ সম্বর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। প্রবীণ নাগরিকরা সমাজের বোঝা নন, তারা আমাদের পদপ্রদর্শক অনুপ্রেরণা - এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজকের এই সামাজিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, অরবিন্দ ক্লাব বিভিন্ন সময়ে নানা সামাজিক কাজকর্ম করে থাকে। রক্তদান, বস্ত্রদান থেকে শুরু নানা ধরনের কাজে যুক্ত থাকেন তারা। আজ এই ক্লাবের উদ্যোগে প্রবীণ নাগরিকদের সম্বর্ধনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এধরনের উদ্যোগ সমাজের মধ্যে তথা সারা ত্রিপুরায় এক বিশেষ বার্তা যাবে। রাজ্যের অন্যান্য সামাজিক সংস্থাগুলিও এধরনের উদ্যোগ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তারাও এমন কর্মসূচিতে নিজেদের যুক্ত করবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম প্রতিটি বাড়ি থেকেই শুরু হওয়া প্রয়োজন। সময়ের সাথে সাথে প্রত্যেকের বয়স হয়ে যাবে। যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের পুরনো ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। সেটাকে পুঁজি করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। বয়স্ক ব্যক্তিদের যাতে বোঝা বলে মনে না করা হয়। তাদের যাতে অপাংক্তেয় করে না রাখা হয়। একদিন না একদিন প্রত্যেককে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু যাতে সম্মানের সঙ্গে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন এবং যাওয়ার আগে যাতে মানুষকে কিছু দিয়ে যান।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৭০ ঊর্ধ্ব বয়স্ক নাগরিকদের কথা ভেবে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আয়ুষ্মান ভারত জন আরোগ্য প্রকল্প চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যাতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাওয়া যাবে। আমরাও সেই দিশায় মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা চালু করেছি। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের জন্য কিছু করতে প্রচেষ্টা রাখতে হবে সকলকে। একজনের প্রয়োজনে অন্যজনকে পাশে দাঁড়াতে হবে।
ডাঃ সাহা আরো বলেন, অতীতে মোগল, ইংরেজ সহ অনেক বৈদেশিক শক্তি ভারতকে আক্রমণ করেছিল। কিন্তু এরপরও ভারত তার নিজস্ব কৃষ্টি সংস্কৃতি সভ্যতা ধরে রেখেছে। বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের মানুষের বাসস্থান হলেও আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আর পূর্বতন সরকার ভগবানে বিশ্বাস করতো না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমাদের সরকার মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস অটুট রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের পর থেকে এই সরকার আমাদের পুরনো ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার স্বচ্ছতার মধ্যে থাকতে চাই। স্বচ্ছতার সঙ্গেই মানুষের কল্যাণে কাজ করছে সরকার। আগরতলা শহরের উন্নয়নে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। উন্নয়ন বাস্তবায়নে সরকার নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। শহরে বৃষ্টির সময়ে জমা জল নিষ্কাশনে পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যা দেশের কোন শহরে করা হয় না। আরো কিভাবে দ্রুত করা যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পুর নিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্ত, সমাজসেবী শ্যামল কুমার দেব, অরবিন্দ ক্লাবের কর্মকর্তা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।