আগরতলা, ২৬ আগস্ট: রাজ্যে বিরোধী দল ও তাদের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। বুধবার আগরতলার যোগেন্দ্রনগর এলাকায় দলের একটি কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার ওই কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে তিনি রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশের অবনতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, বিজেপি গণতন্ত্র, আইন ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা বললেও তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সেই দাবির মিল পাওয়া যাচ্ছে না। যোগেন্দ্রনগরের সিপিআই(এম) কার্যালয়ের কাছাকাছি বিজেপির মিছিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক সৌজন্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি অর্থের কথিত অপব্যবহার নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিজেপির কিছু সমর্থকের মধ্যেও বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।
বিদ্যুৎ মাশুলে ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার সরকারি ঘোষণারও সমালোচনা করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, চলমান বিভিন্ন ইস্যু থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এই ঘোষণা কতটা কার্যকর হয়, তা বাস্তবায়নের পরই জনগণ বিচার করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যোগেন্দ্রনগরের সিপিআই(এম) কার্যালয়টি এর আগে প্রায় ১০ বার হামলার শিকার হয়েছে বলেও দাবি করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সিপিআই(এম) কখনও রাজনৈতিক হিংসা শুরু করেছে—এমন অভিযোগের প্রমাণ দেখাতে হবে। তাঁর দাবি, দলের কার্যালয় ও কর্মীদের উপর হামলার ঘটনাগুলির একটি পৃথক নথি নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করছে সিপিআই(এম)।
পুলিশ কী ধরনের নথি সংরক্ষণ করছে, সে বিষয়ে মন্তব্য না করলেও দলের পক্ষ থেকে প্রতিটি ঘটনার তথ্য পদ্ধতিগতভাবে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত, ভবিষ্যতে তাদের প্রত্যেককেই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন বিরোধী দলনেতা।
তবে জিতেন্দ্র চৌধুরীর এই অভিযোগগুলি রাজনৈতিক দলের বক্তব্য হিসেবেই উঠে এসেছে; এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।