আগরতলা, ২৪ আগস্ট: রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সোমবার সচিবালয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন খাদ্য, জনবণ্টন ও ক্রেতা বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। একই দিনে রাজ্যের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL) এবং পেট্রোলিয়াম ডিলারদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তিনি।
ত্রিপুরা হোলসেল গ্রোসারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে চাল, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, আলু ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মজুত, প্রাপ্যতা এবং বাজারদর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সাধারণ মানুষের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহল ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ যাতে কোনওভাবে ব্যাহত না হয় এবং সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, রাজ্যে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সচিবালয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খাদ্য দপ্তরের প্রধান সচিব ও অধিকর্তার পাশাপাশি IOCL-এর প্রতিনিধিরা এবং ত্রিপুরা পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সদ্য নির্মিত পেট্রোলিয়াম, অয়েল অ্যান্ড লুব্রিক্যান্টস (POL) ডিপোর কার্যক্রম দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেকেরকোট থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্যাঙ্কারগুলির সুশৃঙ্খল ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে খাদ্য দপ্তর, IOCL এবং পেট্রোলিয়াম ডিলারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থায় যাতে কোনও ধরনের সমস্যা তৈরি না হয় এবং গ্রাহকদের কাছে সময়মতো পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পৌঁছে যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং রেশন ব্যবস্থায় চালের বরাদ্দ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দল সিপিআই(এম)। দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হরিপদ দাস শনিবার এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, রেশন দোকানের মাধ্যমে চাল সরবরাহের ক্ষেত্রে পরিবারপিছু বরাদ্দে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, চারজনের বেশি সদস্য থাকা পরিবারগুলিকেও সর্বোচ্চ ২০ কেজি চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটি এই সিদ্ধান্তকে জনবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
পাশাপাশি, গত কয়েক মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরে সিপিআই(এম)। দলের দাবি, গত তিন মাসে চালের দাম প্রতি কুইন্টালে প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মসুর ডাল ও চিনির দামও প্রতি কুইন্টালে ১,০০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সর্ষের তেলের দাম লিটারপিছু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বিভিন্ন মশলার দামও বেড়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে সিপিআই(এম) সংগঠিত জনমত গড়ে তোলা এবং আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছে। ফলে একদিকে বাজারদর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পর্যালোচনা, অন্যদিকে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ—দুই দিক থেকেই বিষয়টি বর্তমানে রাজ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।