Home আগরতলা১৪.৫৫ কোটি টাকার ভুয়ো টেন্ডার দুর্নীতি! সাসপেন্ডেড IAS অভিষেক চন্দ্রের বাড়িতে ইডির হানা, ত্রিপুরা-সহ তিন রাজ্যে ১৩টি স্থানে তল্লাশি

১৪.৫৫ কোটি টাকার ভুয়ো টেন্ডার দুর্নীতি! সাসপেন্ডেড IAS অভিষেক চন্দ্রের বাড়িতে ইডির হানা, ত্রিপুরা-সহ তিন রাজ্যে ১৩টি স্থানে তল্লাশি

by Debasish
0 comments 1 views

সরকারি দপ্তরের ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। উদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস ও হাওয়ালা লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য। মুম্বাইয়ে সম্পত্তি কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণেও প্রতারণার টাকা ব্যবহারের অভিযোগ ইডির।

আগরতলা, ৫ নভেম্বর : ত্রিপুরার ১৪.৫৫ কোটি টাকার কথিত ভুয়ো সরকারি টেন্ডার দুর্নীতির তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে সাসপেন্ডেড আইএএস আধিকারিক অভিষেক চন্দ্রের বাসভবন-সহ ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রের মোট ১৩টি স্থানে তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকরা। গত ৪ নভেম্বর এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস, ইলেকট্রনিক রেকর্ড এবং কথিত হাওয়ালা লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

ইডির আগরতলা সাব-জোনাল অফিসের আধিকারিকরা অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA), ২০০২-এর ১৭ নম্বর ধারায় এই তল্লাশি অভিযান চালান। পশ্চিম ত্রিপুরার ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআরের ভিত্তিতে শুরু হওয়া অর্থপাচার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নাগপুরের সংস্থা M/s SK Sales Corporation-এর দায়ের করা অভিযোগ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগে সাসপেন্ডেড ত্রিপুরা ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক অভিষেক চন্দ্র এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগীর নাম উঠে আসে। অভিযোগকারী সংস্থার দাবি, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি টেন্ডারের নামে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১৪.৫৫ কোটি টাকা আর্নেস্ট মানি ডিপোজিট (EMD) হিসেবে জমা করানো হয়েছিল।

কিন্তু ইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, যেসব টেন্ডারের কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেগুলি আদৌ ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের বিভিন্ন সরকারি কাজের টেন্ডারের নামে জাল নথি ও ভুয়ো ওয়ার্ক অর্ডার ব্যবহার করে এই টাকা আদায় করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

সরকারি দপ্তরের নাম নকল করে টাকা আদায়ের অভিযোগ

ইডির অভিযোগ, অভিষেক চন্দ্র নিজেকে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণকারী আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পাশাপাশি অভিযোগকারী সংস্থার সঙ্গে উত্পল কুমার চৌধুরীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে সরকারি কাজের অর্থ প্রদান প্রক্রিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।

অভিযোগ অনুযায়ী, ‘Directorate of Higher Education’ নামে ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে টাকা জমা নেওয়া হয়। কিন্তু তদন্তে ইডির দাবি, এই নামে কোনও সরকারি দপ্তরের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েনি। বরং একই রকম নাম ব্যবহার করে উত্পল কুমার চৌধুরীর মালিকানাধীন একটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছিল। সরকারি দপ্তরের নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

এছাড়াও কৃষ্ণা চক্রবর্তীর সঙ্গে যুক্ত একটি যৌথ উদ্যোগকে টাকা সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি ইডির। ওই সংস্থার হয়ে তাঁর স্বামী সুদীপ পাল কাজ করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগকারীর আস্থা বজায় রাখতে কয়েকটি পর্যায়ে আংশিক টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে পরবর্তীতে আরও বেশি পরিমাণ অর্থ জমা দিতে প্ররোচিত করা হয় বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক সংস্থার অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ

ইডির তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, ভুয়ো প্রতিষ্ঠানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হতো। কিছু ক্ষেত্রে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এই অর্থ স্থানান্তরের কাজে একাধিক শেল কোম্পানি বা কাগুজে সংস্থার ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে কয়েকটি সংস্থা উত্পল চৌধুরীর পরিচিত ব্যক্তি এবং গৃহকর্মীদের নামে নিবন্ধিত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মুম্বাইয়ে সম্পত্তি, বিদেশ ভ্রমণ ও হাওয়ালা লেনদেনের যোগসূত্র

তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে মুম্বাইয়ে একাধিক স্থাবর সম্পত্তি কেনা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি আবাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট এবং শিবাজি পার্ক এলাকার একটি আবাসিক সম্পত্তির কথাও উল্লেখ করেছে ইডি। এই সম্পত্তিগুলি অভিষেক চন্দ্রের পরিবারের সদস্যদের নামে কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

এছাড়াও বিদেশ ভ্রমণ এবং বিলাসবহুল সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রেও কথিত প্রতারণার অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ কলকাতার এক সন্দেহভাজন হাওয়ালা কারবারির মাধ্যমে অন্যত্র পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

৪ নভেম্বরের তল্লাশিতে অভিষেক চন্দ্রের বাসভবন ছাড়াও সন্দেহভাজন হাওয়ালা কারবারিদের বাড়ি এবং একাধিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি, উচ্চমূল্যের সম্পত্তির বিবরণ, বিভিন্ন কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত তথ্য এবং অভিযুক্তদের ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি।

৪৪ কোটি টাকার পৃথক প্রতারণার মামলাতেও তদন্ত

এদিকে, উত্পল কুমার চৌধুরী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক অর্থপাচার মামলার তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। ECIR/AGSZO/03/2025 নম্বরের ওই মামলাটি ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে দায়ের হওয়া পাঁচটি এফআইআরের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে।

ইডির দাবি, সেখানেও একই ভুয়ো প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রায় একই ধরনের প্রতারণার কৌশল ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪৪ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই পৃথক মামলায় ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি এবং ৩১ জুলাই যথাক্রমে Provisional Attachment Order No. 01/2026 ও No. 05/2026 জারি করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

You may also like

Leave a Comment