আগরতলা, ২৮ আগস্ট : সরকারি চাকরিতে নিয়োগের পরিসংখ্যান এবং শূন্যপদ পূরণ নিয়ে ত্রিপুরা বিধানসভায় উত্তেজনা ছড়াল। অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নিয়মিত নিয়োগের যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, তা নিয়ে সরব হন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তীব্র ভাষায় বিরোধীদের আক্রমণ করেন মন্ত্রী রতন নাথ। দুই পক্ষের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশন কক্ষে কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিধানসভায় পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত রাজ্যে বিভিন্ন গ্রুপের পদে মোট ২২ হাজার ৩৬৫টি নিয়মিত নিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে গ্রুপ ‘এ’-তে ৮৭৭ জন, গ্রুপ ‘বি’-তে ১,১৪৩ জন, গ্রুপ ‘সি’-তে ১৬,৮৩৩ জন এবং গ্রুপ ‘ডি’-তে ৩,৫১২ জন নিয়োগ পেয়েছেন। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক ১৪,০৮৪ জন এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২৬,২২৮ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে।
নিয়োগের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যানের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী সরকারের নিয়োগনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বিপুল সংখ্যক পদ খালি থাকলেও সেই অনুপাতে নিয়মিত নিয়োগ হয়নি।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত নিয়োগের সংখ্যা যেখানে প্রায় ২২ হাজার, সেখানে শুধু শিক্ষা দপ্তরেই এই সময়ে অবসর নিয়েছেন ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী। ফলে শূন্যপদ পূরণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিয়মিত পদে নিয়োগের পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করে সরকারি পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, এতে স্থায়ী চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
পাল্টা আক্রমণে রতন নাথ
বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন মন্ত্রী রতন নাথ। তিনি বিরোধীদের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সরকারের আমলে টিপিএসসি, জেআরবিটি-সহ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বিরোধীদের উদ্দেশে অতীত সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বাম আমলে সরকারি চাকরিতে স্বজনপোষণ ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। বর্তমান সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়া তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বলেও দাবি করেন তিনি।
উত্তপ্ত বিধানসভা
দুই পক্ষের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিরোধী বিধায়কদের বক্তব্য ও সরকারের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব ঘিরে কিছু সময়ের জন্য হট্টগোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিয়োগ, শূন্যপদ এবং সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতার প্রশ্নে সরকার ও বিরোধীদের এই মুখোমুখি অবস্থান বিধানসভার অধিবেশনে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করেছে।
এদিকে, সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী টিপিএসসির সুপারিশ ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে কৃষি অফিসার, মেডিকেল অফিসার এবং অধ্যাপক-সহ আরও ৩৭৪টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে আগামী দিনে সরকারি নিয়োগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বিধানসভায় জানানো হয়েছে।