আগরতলা, ২৬ অক্টোবর: জমাতিয়া প্রথাগত আইন, ২০১৭-এর ১৪৩ নম্বর ধারার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় ত্রিপুরা সরকার এবং ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি)-এর কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট। মহিলাদের প্রলোভন দেখানো এবং ধর্ষণের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রথাগত বিচারব্যবস্থার অধীনে আর্থিক জরিমানার বিধানকে কেন্দ্র করেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলায় নোটিশ জারি করে। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা। মামলাটি দায়ের করেছেন মধুমিতা ভট্টাচার্য। একই বিষয়ে বিচারাধীন অন্য একটি মামলার সঙ্গে এই মামলাটিকেও যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আইনজীবী শৌমেন্দু মুখার্জির মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে জমাতিয়া প্রথাগত আইনের ১৪৩ নম্বর ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, এই ধারার সুযোগ নিয়ে ধর্ষণ-সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্তরা প্রথাগত বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে আর্থিক জরিমানা দিয়ে ফৌজদারি বিচারের পরিণতি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
মামলায় আইনটি প্রণয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সুপ্রিম কোর্টে পেশ এবং পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জমাতিয়া প্রথাগত আইন, ২০১৭ ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে প্রণয়ন করে। জমাতিয়া সম্প্রদায়ের প্রচলিত রীতিনীতি এবং বিবাদ নিষ্পত্তির ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্দেশ্যেই এই আইন তৈরি করা হয়।
এই আইনের ১৪৩ নম্বর ধারায় ‘ওক্রা’দের দেওয়া রায় বা সিদ্ধান্তে কোনও পক্ষ অসন্তুষ্ট হলে উপযুক্ত আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। ওক্রারা জমাতিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক ও সামাজিক নেতৃত্বের অংশ, যাঁরা প্রথাগত বিবাদ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করেন।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশের পর ত্রিপুরা সরকার ও টিটিএএডিসির বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারাটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।