পরিবারতন্ত্র, অবমূল্যায়ন ও আত্মসম্মানে আঘাতের অভিযোগ তুলে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান তথা রাজ্য কমিটির সদস্য নিতীশ দে। প্রদেশ সভাপতির কাছে পাঠালেন পদত্যাগপত্র।
কৈলাসহর, ৪ নভেম্বর : আসন্ন পুর ও নগর নির্বাচনের আগে কৈলাসহরে বিজেপির অন্দরে বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিলেন বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান তথা বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য নিতীশ দে। বুধবার তিনি প্রদেশ বিজেপি সভাপতির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিতীশ দে অভিযোগ করেন, কৈলাসহরে বর্তমানে দলের মধ্যে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। বহিরাগতদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে স্থানীয় মানুষের অস্তিত্ব ও স্বার্থকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, যাঁদের নিজেদের জায়গায় কোনও গুরুত্ব নেই, তাঁরাই অন্য জায়গায় এসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন। এই ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে নিজের সর্বস্ব দিয়ে দলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন। বিজেপিকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে রক্ত, ঘাম ও শ্রম দিয়েছেন। কিন্তু দলের কাছ থেকে প্রাপ্য সম্মান কিংবা কাজের যথাযথ মূল্যায়ন পাননি। বরং বিভিন্ন সময়ে অপবাদ ও অসম্মানের শিকার হতে হয়েছে। নিজের বক্তব্য তুলে ধরার পরও কোনও ন্যায়বিচার পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।
নিতীশ দে আরও জানান, আত্মসম্মান বজায় রেখে কাজ করার পরিবেশ না থাকায় শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর, তবুও বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে সহজ ছিল না বলেও স্বীকার করেন তিনি।
আবেগপ্রবণ কণ্ঠে নিতীশ দে বলেন, আগামী দিনে প্রয়োজনে সবজি বিক্রি করেও সংসার চালাবেন, কিন্তু আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে রাজনীতি করবেন না। তাঁর কাছে ব্যক্তিগত সম্মান ও মর্যাদাই শেষ কথা।
আসন্ন নগর নির্বাচনের আগে নিতীশ দে-র এই পদত্যাগ কৈলাসহরে বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থানের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিশেষ করে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ নির্বাচনের আগে শাসক শিবিরের জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।