পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনায় বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার, নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠাচ্ছেন উপভোক্তারা।
আগরতলা, ৪ নভেম্বর: প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে ত্রিপুরা। রাজ্যের বিভিন্ন বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনার হাত ধরে রাজ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্মিলিত স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ২০ মেগাওয়াটের গণ্ডি অতিক্রম করেছে।
একসময় বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের জন্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হতো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। কিন্তু বর্তমানে বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন বহু উপভোক্তা। দিনের বেলায় সূর্যের আলো ব্যবহার করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে বাড়ির বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ মূল গ্রিডে সরবরাহ করার সুযোগও তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ পরিবারগুলিও এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশীদার হয়ে উঠছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে চালু হওয়া পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনার মূল লক্ষ্যই হলো বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের খরচ কমানো এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা। ত্রিপুরায় এই প্রকল্পের অগ্রগতি রাজ্যের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব হলে প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর চাপ কমানোর পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিকাঠামোও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া সম্ভব।
সব মিলিয়ে ২০ মেগাওয়াটের মাইলফলক অতিক্রম ত্রিপুরার সৌরবিদ্যুৎ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আগামী দিনে রাজ্যের আরও বেশি সংখ্যক পরিবার এই ব্যবস্থার আওতায় এলে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের চিত্রে বড়সড় পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।