ভোট চুরি, ইভিএম ও ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অবস্থানকে ঘিরে তীব্র আক্রমণ বিজেপি নেতৃত্বের
আগরতলা, ২৬ অক্টোবর: দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস। বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং নিজেদের রাজনৈতিক জনভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার কারণেই বিরোধীরা হতাশ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করলেন ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়। সোমবার বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে নিশানা করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কথিত বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অভিষেক দেবরায় দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েই বিরোধীরা বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর পরিবারকে নিশানা করে করা মন্তব্যগুলিকেও বিরোধীদের হতাশার প্রতিফলন বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
ভোট চুরির অভিযোগ নিয়েও কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলকে আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপিকে মোকাবিলা করতে না পেরে বিরোধীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
নির্বাচনী অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক দেবরায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সংসদীয় সদস্যপদ খারিজের ঘটনাটির উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের সময় রামপুর কেন্দ্রকে ঘিরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনেও বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হন অভিষেক দেবরায়। তাঁর অভিযোগ, ওই আন্দোলনের উদাহরণ সামনে রেখে দেশের যুবসমাজকে রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। নেহরু ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে ব্যর্থ হলে বিরোধী নেতারা বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে বিজেপি সভাপতি বলেন, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং অতীতেও বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের সংশোধন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ সম্পর্কে মানুষ অবগত রয়েছেন।
কেরল ও পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগও আনেন তিনি। অভিষেক দেবরায়ের দাবি, নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে গেলে ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না, কিন্তু ফলাফল বিপক্ষে গেলেই ইভিএম এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।
সবশেষে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক দেবরায় দাবি করেন, দেশজুড়ে বিজেপির প্রভাব বাড়তে থাকায় বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েছে। আর সেই হতাশা থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ত্রিপুরা বিজেপির সভাপতি।