রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ, শিল্পীর সাফল্যে গর্বিত ত্রিপুরা
আগরতলা, ২৬ অক্টোবর: জাতীয় স্তরে শিল্পকলার জগতে ফের গর্বের মুহূর্ত ত্রিপুরার জন্য। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিল্পকলার সম্মান ললিত কলা অ্যাকাডেমি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করলেন শিল্পী সান্তা দেব। তাঁর এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা, বিরোধী দলনেতা-সহ সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন মহল।
গত ২১ অক্টোবর, ২০২৬ নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৬৫তম জাতীয় শিল্পকলা প্রদর্শনীর নির্বাচিত শিল্পীদের হাতে ললিত কলা অ্যাকাডেমির পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। একই অনুষ্ঠানে তৃতীয় প্রিন্ট বিয়েনালে ইন্ডিয়া, ২০২৬-এর গ্র্যান্ড প্রাইজ বিজয়ী এবং বিশেষ সম্মানপ্রাপকদেরও সংবর্ধনা জানানো হয়। সেই মঞ্চেই জাতীয় স্বীকৃতি অর্জন করে ত্রিপুরার শিল্পী সান্তা দেবের সাফল্য রাজ্যের সাংস্কৃতিক জগতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দীর্ঘদিনের শিল্পচর্চা, নিষ্ঠা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের সৃজনশীল প্রতিভাকে তুলে ধরার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই এই সম্মানকে দেখা হচ্ছে। সান্তা দেবের এই প্রাপ্তি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সমগ্র ত্রিপুরার শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও এক উল্লেখযোগ্য অর্জন।
তবে এই সাফল্যকে ঘিরে রাজ্যের সর্বস্তরে আরও ব্যাপক উদযাপন ও স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতি, জনজাতি কিংবা সম্প্রদায়ের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ত্রিপুরার কৃতী সন্তানদের সাফল্যকে সম্মিলিতভাবে উদযাপন করা উচিত। রাজ্যের কোনও নাগরিক দেশের অন্য প্রান্তে অন্যায় বা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলে যেমন সকলে তাঁর পাশে দাঁড়াবেন, তেমনই কোনও ব্যক্তি জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন করলেও তাঁকে সম্মান জানাতে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, রাজ্যের কৃতী ব্যক্তিত্বদের যথাযথ সম্মান জানানো কেবল অভিনন্দন জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের মধ্যেও উৎকর্ষ অর্জন এবং সৃজনশীলতার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ভারতের শিল্পঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সমকালীন সৃজনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, শিল্প শুধু ছবি আঁকা বা ভাস্কর্য নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি সমাজের সংস্কৃতি, সামষ্টিক স্মৃতি, বর্তমান অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাও শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
রাষ্ট্রপতি বিশেষভাবে প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিল্পীদের আধুনিক প্রযুক্তি এবং সমকালীন শিল্পকলার কৌশলের সঙ্গে পরিচিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি শিল্পীদের জীবিকা সুরক্ষিত করতে আর্থিক সহায়তা, বৃহত্তর বাজারের সুযোগ এবং শিল্পসংগ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
শিল্পকলাকে শুধুমাত্র প্রদর্শশালা বা গ্যালারির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে নবীন ও প্রতিভাবান শিল্পীদের নিজেদের সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য আরও বেশি সুযোগ করে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
সান্তা দেবের এই জাতীয় স্বীকৃতি ত্রিপুরার শিল্প-সংস্কৃতির গৌরবকে আরও উজ্জ্বল করল। রাজ্যের প্রতিভাবান শিল্পীদের সাফল্যকে যথাযথ সম্মান জানানো এবং তাঁদের কাজকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার মধ্য দিয়েই আগামী দিনে ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা শিল্পানুরাগী মহলের।