রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি, জাতীয় ঐক্য ও শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টার অভিযোগ বিরোধীদের বিরুদ্ধে
আগরতলা, ২৬ অক্টোবর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি। এই কর্মসূচি থেকে কংগ্রেস ও সিপিএমকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান বিজেপি নেতৃত্ব। বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগও তোলা হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ভগবান দাস অভিযোগ করেন, বিরোধী নেতাদের রাজনৈতিক হতাশারই প্রতিফলন তাঁদের এ ধরনের মন্তব্য। তাঁর দাবি, কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলি জনসমর্থন ফিরে পেতে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। দেশের ঐক্য ও শান্তি বিঘ্নিত করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ভগবান দাস বলেন, “বিজেপির প্রত্যেক কর্মীকে সতর্ক থাকতে হবে এবং চারপাশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে। দেশের শান্তি বিঘ্নিত করা এবং জাতীয় ঐক্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।” বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক বিরোধী শক্তি একজোট হয়ে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলির রাজনৈতিক সমঝোতার সমালোচনা করে ভগবান দাস আম আদমি পার্টিকেও বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলির সঙ্গে যুক্ত করে কটাক্ষ করেন। দিল্লিতে সাম্প্রতিক কিছু বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন বাংলাদেশে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টির পক্ষে সওয়াল করছেন। এগুলি তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করে ভগবান দাস দাবি করেন, তাঁদের নেতৃত্বে দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের মাধ্যমে জনসমর্থন অর্জনের পরিবর্তে বিরোধীরা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কথিত মন্তব্যের প্রসঙ্গে ভগবান দাস বলেন, রাজনৈতিক সমালোচনারও একটি সীমা থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনওভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতীতেও রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধী-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অনুচিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন বিজেপির এই নেতা।
কংগ্রেসের ‘ভারত জোড়ো’ কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভগবান দাস। তাঁর অভিযোগ, ঐক্যের বার্তা দেওয়ার কথা বললেও বিরোধীরা বাস্তবে বিভাজনের রাজনীতি করছে। একই সঙ্গে কংগ্রেস ও সিপিএমের বিরুদ্ধে নির্বাচনী জনসমর্থনের বাইরে অন্য উপায়ে ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করার অভিযোগও আনেন তিনি।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভগবান দাস বলেন, বিজেপির সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং দলের বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং দেশের স্থিতিশীলতাকে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচির শেষে বিজেপি নেতারা ফের কংগ্রেস সভাপতির কথিত মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন।