কৈলাসহর, ২৬ আগস্ট: গরু আটককে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কৈলাসহর-ধর্মনগর জাতীয় সড়ক ২০৮ সংলগ্ন ভগবাননগর এলাকা। বিএসএফের হাতে কয়েকটি গরু আটক হওয়ার পর স্থানীয়দের সঙ্গে বাহিনীর বাকবিতণ্ডা থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয়দের জাতীয় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন বাসিন্দা কয়েকটি গরু নিয়ে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। ভগবাননগর এলাকায় বিএসএফ তাঁদের আটক করে এবং গরুগুলি পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে সন্দেহ প্রকাশ করে। এরপরই বিএসএফের সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএসএফ লাঠিচার্জ করে। এতে মাগুরউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আহমেদ আলি আহত হন। যদিও ঘটনাটি নিয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, আটক করা গরুগুলি স্থানীয় কৃষকদের এবং ভগবাননগর এলাকার বাসিন্দাদের গরু পাচারের সঙ্গে কোনও যোগ নেই। লাঠিচার্জের অভিযোগের পর স্থানীয়দের একাংশও বিএসএফকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন বলে জানা যায়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিএসএফ ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা পিছিয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কৈলাসহর থানার পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী। কৈলাসহর থানার ওসি তাপস মালাকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এরই মধ্যে স্থানীয়রা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
আহত আহমেদ আলিকে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর মাথা ও কানে মোট ছয়টি সেলাই পড়েছে বলে জানা গেছে। আহমেদ আলির অভিযোগ, গাড়ির কাজ করিয়ে ধর্মনগর থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভগবাননগর এলাকায় বিএসএফ তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে। ঘটনায় তিনি আহত হন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভগবাননগর এলাকা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে যথেষ্ট দূরে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের গরু পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে সন্দেহ করা অযৌক্তিক। আটক গরুগুলির মালিকানা যাচাই করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন কৈলাসহর থানার ওসি তাপস মালাকার। তিনি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা জাতীয় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত পর্যন্ত ভগবাননগর এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গরুগুলি কেন আটক করা হয়েছিল এবং সংঘর্ষের ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।