আগরতলা, ৭ নভেম্বর: রাজ্যের আসন্ন পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনে পাঁচটি নগর সংস্থার মোট ৬৫টি আসনে বিজেপি ও এনডিএ প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় প্রায় নিশ্চিত বলে দাবি করলেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ। বিরোধী দলগুলি ওই আসনগুলিতে প্রার্থী দিতে না পারায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। তবে বিরোধীহীন পুর প্রশাসনে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়েও নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছেন তিনি।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী জানান, রাজ্যের ২১টি পুর ও নগর সংস্থার মোট ৩৪৫টি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বর্তমানে চলছে সেগুলির যাচাই-বাছাই। আগামী ১০ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোটগ্রহণ হবে ২৭ নভেম্বর।
রতনলাল নাথের দাবি, মোহনপুর, জিরানিয়া, রানিরবাজার, শান্তিরবাজার এবং কমলপুর—এই পাঁচটি নগর সংস্থার ৬৫টি আসনে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই। ফলে ওই আসনগুলিতে বিজেপি ও এনডিএ মনোনীত প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে বের করতে না পারাকেই এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে নির্বাচনে বিরোধীদের অনুপস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কেও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। তাঁর মতে, নির্বাচিত পুরসভায় কার্যকর বিরোধী প্রতিনিধি না থাকলে শাসক পক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর প্রশ্ন তোলার মতো কেউ থাকবে না। এতে প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি ও গঠনমূলক আলোচনার পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাব রেখেছেন বলে জানান রতনলাল নাথ। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, যেখানে বিরোধী প্রার্থীরা নির্বাচনে নেই, সেখানে তিন থেকে চারজন বিজেপি সদস্যকে পুরসভার অভ্যন্তরে বিরোধী পক্ষের ভূমিকা পালনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। আগরতলা পুর নিগমের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ওই সদস্যরা বিজেপির টিকিটেই নির্বাচিত হবেন। তবে পুরসভার কার্যক্রমে তাঁরা বিরোধী দলের মতো প্রশ্ন তুলবেন, বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করবেন।
এই দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। বিরোধী রাজনীতিতে অভিজ্ঞ কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে আগ্রহী বলেও জানান রতনলাল নাথ।
সব মিলিয়ে, একদিকে ৬৫টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সম্ভাবনার দাবি, অন্যদিকে বিরোধীহীন পুরসভায় শাসক দলের সদস্যদের দিয়েই বিরোধী ভূমিকা পালনের প্রস্তাব—পুর নির্বাচন ঘিরে বিদ্যুৎমন্ত্রীর এই দুই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।