Home আগরতলামাতাবাড়ির দীপাবলি উৎসবে জনসমুদ্রের অপেক্ষা, ১০ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা; নিরাপত্তায় মোতায়েন ৩ হাজারেরও বেশি কর্মী

মাতাবাড়ির দীপাবলি উৎসবে জনসমুদ্রের অপেক্ষা, ১০ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা; নিরাপত্তায় মোতায়েন ৩ হাজারেরও বেশি কর্মী

by Debasish
0 comments 0 views

উদয়পুর, ৭ নভেম্বর: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আলোর উৎসব দীপাবলিকে কেন্দ্র করে ফের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর পদধ্বনিতে মুখরিত হতে চলেছে উদয়পুরের ঐতিহাসিক মাতাবাড়ি। আগামী ৮ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসব ও মেলাকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। এ বছর প্রায় ১০ লক্ষ দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীর সমাগম হতে পারে বলে আশা করছে মেলা কর্তৃপক্ষ। সেই বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পানীয় জল, চিকিৎসা, যানবাহন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম মা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। উৎসব উপলক্ষে মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকাকে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। এবারের আকর্ষণের তালিকায় থাকছে বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা, মনোমুগ্ধকর ড্রোন শো এবং রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের অংশগ্রহণে তিন দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি কাশী থেকে আগত পুরোহিত ও ধর্মীয় পণ্ডিতদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ মঙ্গল আরতি।

গোমতী জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তথা দীপাবলি মেলা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুজন কুমার সেন জানান, এ বছর প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। মেলার বিভিন্ন কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে ১৪টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকছে বিশেষ নজরদারি। উৎসব চলাকালীন ৩ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্দির চত্বরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে প্রায় ৮০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ সুবিধা হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এ বছর উৎসবের তিন দিন কল্যাণসাগরে পুণ্যার্থীদের স্নান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মন্দিরের পুকুর সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা থাকবে, যাতে কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে না পারেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।

ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি সরকারি উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে মোট ১৯টি স্টল ও প্রদর্শনী মণ্ডপ তৈরি করা হবে। সেখানে সরকারি পরিষেবা, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং উপভোক্তাদের সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।

এদিকে মন্দিরের বিশেষ পূজার্চনার প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে। মন্দিরের পুরোহিত চন্দন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রচলিত রীতি ও নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।

৮ নভেম্বর ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে মঙ্গল আরতি। সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে চণ্ডীপূজা, ৮টায় দেবীর মহাস্নান এবং সকাল ১০টায় মূল পূজার্চনা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে নিবেদন করা হবে অন্নভোগ। সন্ধ্যায় ৬টা ৩০ মিনিটে পুনরায় মহাস্নান, রাত ৮টায় সন্ধ্যারতি এবং রাত ১০টায় নিশিপূজা ও দীপাবলি পূজার আয়োজন রয়েছে।

এবারের উৎসবের অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় আকর্ষণ হতে চলেছে শক্তিপীঠে প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী মহাযজ্ঞ। দীপাবলির অমাবস্যা উপলক্ষে এই বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। পুরোহিত চন্দন চক্রবর্তী জানান, মহাযজ্ঞকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উৎসবের প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে নিয়মিত মন্দির ও মেলাপ্রাঙ্গণ পরিদর্শন করছেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা। বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী মেলা, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং আধুনিক আলোকসজ্জার সমন্বয়ে এবারের মাতাবাড়ি দীপাবলি উৎসবকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রস্তুত উদয়পুর। এখন অপেক্ষা দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের আগমনের।

You may also like

Leave a Comment