আগরতলা, ৭ নভেম্বর: পুর নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং কর্মী-সমর্থকের অভাব আড়াল করতেই সিপিআইএম পরিকল্পিতভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে একাধিক এলাকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
অভিষেক দেবরায়ের বক্তব্য, সিপিআইএম বারবার একই ধরনের অভিযোগ তুলে মানুষের মধ্যে শাসক দলের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে চাইছে। তিনি এই প্রচারকে ‘গ্যোবেলসীয় কৌশল’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, তেলিয়ামুড়ায় বিরোধী প্রার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি এসকর্টের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু প্রার্থী বা কর্মীই যদি না থাকে, তাহলে পুলিশ কাদের নিরাপত্তা দেবে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বেলোনিয়া ও উদয়পুরের উদাহরণ দিয়ে বিজেপি সভাপতির দাবি, সেখানে সিপিআইএম কোনও বাধা ছাড়াই মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছে। একইভাবে সোনামুড়া ও মেলাঘরেও তারা প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে। তাহলে অন্য পাঁচটি এলাকায় কেন প্রার্থী দিতে পারেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জিরানিয়া, মজলিশপুর ও রানিরবাজারের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অভিষেকের অভিযোগ, সিপিআইএমের নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের যোগাযোগ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। মানুষের সমর্থন এবং সাংগঠনিক শক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টিকে রাজনৈতিক বাধা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার-সহ সিপিআইএম নেতাদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে বিজেপি সভাপতি বলেন, শুধু শহরে বসে রাজনীতি করলে হবে না, গ্রামাঞ্চলে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। মজলিশপুরে গিয়ে থেকে সংগঠন গড়ে তোলার পরামর্শও দেন তিনি। তাঁর কথায়, নেতৃত্ব যদি মানুষের পাশে থাকে, তাহলে দলের কর্মীরাও সাহস ও উৎসাহ পাবেন। অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের একাংশ সিপিআইএমের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিষেকের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মানুষ যুক্ত হবেন কি না, তা শেষ পর্যন্ত জনগণই ঠিক করেন। তাই বিরোধী দলের প্রতি মানুষের অনীহা বা সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্য বিজেপিকে দায়ী করা যুক্তিসংগত নয়।
এদিকে পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মনোনীত প্রার্থী ও কর্মীদের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর নির্দেশ, কাউন্সিলর কিংবা নগর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে মানুষের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করতে হবে এবং সব সময় তাঁদের পাশে থাকতে হবে। মনোনয়ন পাওয়াই শেষ কথা নয়, জনসেবার মধ্য দিয়েই সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দলের প্রত্যেক প্রার্থী ও কর্মীর লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করা, নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের উন্নতি ঘটানো এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিশা ও ভাবনাকে সামনে রেখেই জনসেবামূলক রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পুর নির্বাচন ঘিরে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চলা রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বিজেপি সভাপতির এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল।