Home আগরতলাবিজেপি বিরোধী ভোট একজোট করার তৎপরতা, বাম-কংগ্রেস সমঝোতা নিয়ে দু’দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: জিতেন্দ্র চৌধুরী

বিজেপি বিরোধী ভোট একজোট করার তৎপরতা, বাম-কংগ্রেস সমঝোতা নিয়ে দু’দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: জিতেন্দ্র চৌধুরী

by Debasish
0 comments 1 views

আগরতলা, ৭ নভেম্বর: আসন্ন পুর নির্বাচনে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে বিরোধী ভোটের বিভাজন রুখতে চাইছে বাম শিবির। সেই লক্ষ্যেই কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সিপিআইএম। আগামী এক থেকে দু’দিনের মধ্যেই এই সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে বলে জানালেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী।

শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী ভোট যাতে বিভিন্ন দলের মধ্যে ভাগ হয়ে না যায়, সেটাই এখন বিরোধী শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১০ নভেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাতে সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পুর এলাকায় পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হবে বলে আশাবাদী তিনি।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, শুরু থেকেই সিপিআইএম বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতে অভিন্ন প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে এসেছে। তেলিয়ামুড়া, পানিসাগর ও সোনামুড়ার মতো কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যেই সমঝোতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্য কয়েকটি জায়গাতেও প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক সাড়া মিললেও এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। শুক্রবারও বামফ্রন্টের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দলগুলির নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিন নির্বাচন পরিচালনা নিয়েও সরব হন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, পাঁচটি পুর শহর-সহ রাজ্যের আরও কয়েকটি এলাকায় বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সর্বত্র অবাধ ও নিরপেক্ষ মনোনয়ন প্রক্রিয়ার পরিবেশ বজায় থাকেনি।

রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্ত সাব্রুম থেকে উত্তর প্রান্ত ধর্মনগর পর্যন্ত মানুষের মধ্যে বিরোধী ঐক্যের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বলেও দাবি করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, গত সাড়ে ন’বছরের শাসন এবং পুর এলাকাগুলির বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ অসন্তুষ্ট। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিকে পরাস্ত করতে বিরোধীদের এক মঞ্চে আসা জরুরি।

বিজেপির প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, ২০২২ সালের উপনির্বাচনে ছাপ্পা ভোট ও ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের মধ্য থেকেই কয়েকজনকে এবার পুর নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে। বিশেষ করে আগরতলা পুর নিগমের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এমন ব্যক্তিদের হাতে গেলে শহরের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর কথায়, এই লড়াই শুধুমাত্র সিপিআইএম, কংগ্রেস কিংবা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়। তাঁর দাবি, গণতন্ত্র রক্ষা, রাজ্যের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা এবং কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই বিরোধীদের মূল উদ্দেশ্য।

মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া শনিবার নির্ধারিত ছিল। এখন নজর ১০ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে, অর্থাৎ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমার দিকে। তার আগেই বাম-কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলির মধ্যে আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ছবি স্পষ্ট হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

You may also like

Leave a Comment