Home আগরতলাচুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে সরব প্রদ্যোৎ, আগামী মাসের পর সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা

চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে সরব প্রদ্যোৎ, আগামী মাসের পর সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা

by Debasish
0 comments 9 views

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৬ অক্টোবর: ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন। আগামী মাসের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পদে না থাকলেও ত্রিপুরার মানুষের অধিকার ও তিপ্রাসা জনগণের দাবির পক্ষে তাঁর কণ্ঠস্বর অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় প্রদ্যোতের মূল বক্তব্য ছিল তিপ্রাসা চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন। তাঁর কথায়, ভিলেজ কমিটির নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবার চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

দীর্ঘ অপেক্ষার পরও যদি চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি হয়, তাহলে তা মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে অন্যায় হবে বলে মন্তব্য করেন প্রদ্যোৎ। তিপ্রাসা জনগণের সাংবিধানিক, ভূমি, ভাষা, শিক্ষা, রাজনৈতিক ও আর্থিক অধিকারের বিষয়গুলি চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

তবে অধিকার আদায়ের প্রশ্নকে কোনওভাবেই বাঙালি ও আদিবাসীদের বিভাজনের দিকে নিয়ে যেতে চান না বলে স্পষ্ট করেন প্রদ্যোৎ। ত্রিপুরায় হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বাঙালি ও আদিবাসী—সব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজ্যের উন্নয়নের বার্তা দেন তিনি।

এরপরই নিজের রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে মুখ খোলেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো। জানান, এই মাস অথবা আগামী মাসের পর তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন না। তাঁর বাবা মহারাজা কিরিট বিক্রম মাণিক্যের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে প্রদ্যোৎ বলেন, সাফল্যের শীর্ষে থাকতেই সরে যাওয়া উচিত।

প্রদ্যোতের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতির প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না। তিপ্রাসা জনগণের অধিকার, পরিচয় ও সম্মানের প্রশ্ন থেকেই তিনি রাজনৈতিক পরিসরে এসেছিলেন। ২০১৭ সাল থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিপ্রাসা সমাজের ঐক্য ও পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক জীবনের প্রভাব নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও শারীরিক অবস্থার ওপর পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রদ্যোৎ। গুরুতর আর্থ্রাইটিসের কারণে অনেক সময় চলাফেরায় সমস্যার সম্মুখীন হওয়া এবং মানসিক চাপের মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তবে সক্রিয় রাজনীতি ছাড়লেও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর। ‘বুবাগ্রা’ হিসেবে মানুষের পাশে থাকার কথা জানিয়ে প্রদ্যোৎ বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের হয়ে কথা বলবেন। তাঁর কাছে রাজনৈতিক দলের চেয়ে মানুষ ও সত্যের প্রতি আনুগত্যই অগ্রাধিকার পাবে বলেও জানান তিনি।

তিপ্রা মথার নেতা-কর্মীদের উদ্দেশেও সততা ও নীতির সঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন তিনি। পদ বা ক্ষমতার বিনিময়ে মানুষের অধিকার বিসর্জন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রদ্যোৎ বলেন, তিপ্রাসা চুক্তি বাস্তবায়িত না হলে রাজনৈতিক শক্তিগুলির প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হবে।

ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এই ফলাফল কোনও একক রাজনৈতিক শক্তির জয় নয়, বরং গ্রামের মানুষের জয়। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানান তিনি। নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের গ্রামের মানুষের স্বার্থে সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান।

You may also like

Leave a Comment