আগরতলা, ৭ অক্টোবর: ত্রিপুরা মন্ত্রিসভায় থাকা তিপ্রা মথার দুই মন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণের দাবিতে সরব হলেন বিজেপির এক নেতা। রাজ্য ও প্রদেশ নেতৃত্বের কাছ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পথ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে যতদিন সময় লাগবে, ততদিন অবরোধ চলবে বলেও দাবি করেন তিনি।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই বিজেপি নেতা বলেন, “আমরা পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। প্রয়োজনে দলের জন্য জীবন দিতেও আমরা পিছপা হব না।” অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার শিক্ষা বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ও দলের সভাপতির অবিলম্বে দিল্লির সঙ্গে কথা বলে তিপ্রা মথার দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের ব্যবস্থা করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, ওই দুই মন্ত্রীকে সরিয়ে দিলে রাজ্যে শান্তি ফিরে আসবে এবং টিটিএএডিসির উন্নয়নমূলক কাজ আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার পক্ষে তাঁরা নন বলেও দাবি করেন ওই নেতা। তাঁর কথায়, “আমরা মানুষের পক্ষে এবং মানুষের জন্য কাজ করি। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে আজ প্রখর রোদের মধ্যেও মানুষকে কষ্ট দিতে হচ্ছে, আমরাও কষ্ট পাচ্ছি।”
এদিন তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, মন্ত্রিসভা থেকে তিপ্রা মথার দুই মন্ত্রীকে অপসারণের বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছ থেকে বার্তা না আসা পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। “আমরা এক বিন্দুও সরব না, এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়ব না”—বলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
অন্যদিকে, শান্তিরবাজারের এসডিপিওর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, গণনাকেন্দ্রে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে এবং প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় কার্যকর্তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এমনকি গণনা শেষ না করেই ফিরে আসতে হয়েছে বলেও দাবি করেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশেষ করে শান্তিরবাজারের এসডিপিওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সমর্থনে তাঁদের কাছে আরও তথ্য ও রিপোর্ট রয়েছে বলে দাবি করেন ওই নেতা। প্রয়োজনে সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হবে এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।