ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানচর্চায় পড়ুয়া ও গবেষকদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ, ২১ নভেম্বর জাতীয় স্তরের পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও মিলবে সহায়তা
আগরতলা, ১৩ অক্টোবর: ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান, দর্শন ও বৌদ্ধিক পরম্পরা সম্পর্কে পড়ুয়া এবং গবেষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করল ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে চালু করা হয়েছে ‘ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেমস’ (IKS) কর্নার। এই বিশেষ বিভাগে ভারতীয় জ্ঞানচর্চার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ মিলবে।
গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দেবব্রত দাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ বিভাগের উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং বিদ্যা ভারতী উচ্চ শিক্ষা সংস্থান, ত্রিপুরার যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানব্যবস্থার সঙ্গে ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের পরিচিত করানো এবং আধুনিক শিক্ষা, পাঠদান ও গবেষণার ক্ষেত্রে এই জ্ঞানভাণ্ডারের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এই বিশেষ বিভাগ চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগ্রহী পড়ুয়া ও গবেষকরা এক জায়গায় প্রয়োজনীয় অধ্যয়ন সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স অফিসার দেবাশিস পাল, গ্রন্থাগারিক ড. চম্পেশ্বর মিশ্র-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কর্মী, ছাত্রছাত্রী, গবেষক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
জাতীয় স্তরের পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও সহায়তা
এই ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেমস কর্নারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, আগামী ২১ নভেম্বর, ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য ‘ভারত বৌদ্ধIKS ২.০’ জাতীয় স্তরের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা উপকরণ এখানে পাওয়া যাবে। দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রয়োজনীয় পাঠ্যসামগ্রী উপলব্ধ হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে ধারণা অর্জন করতে পারবেন এবং প্রস্তুতি গ্রহণে সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যা ভারতী উচ্চ শিক্ষা সংস্থানের সঙ্গে যৌথভাবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্যের প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে এই বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতে চায় ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষা ও গবেষণার পরিসরে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানব্যবস্থাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং তার আধুনিক প্রয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।