আগরতলা, ১২ অক্টোবর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্ন হলো কৃষিক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্বের শস্য ভাণ্ডারে অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্যের কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, কৃষিক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং খাদ্যশস্য উৎপাদনে ত্রিপুরাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে রাজ্য সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর।
সোমবার এই কথা জানান রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ।
এদিন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার গজারিয়া বাজারে ৪ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দ্বিতল গ্রামীণ বাজারের উদ্বোধন করে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ব্যবহারের জন্য তা খুলে দেন কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কৃষি বাজারগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা প্রদান এবং কৃষিপণ্যের ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

মন্ত্রী জানান, রাজ্যে মোট ৫৫৪টি কৃষি বাজারের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ২০৪টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১১৭টি প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলছে। এই উদ্যোগের ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উন্নত পরিকাঠামোর সুবিধা পাবেন এবং কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে রতন লাল নাথ বলেন, কৃষি ভারতের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষিক্ষেত্রের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনওই সম্পূর্ণ হতে পারে না।

তিনি বলেন আমরা ত্রিপুরাকে স্বনির্ভর করে তুলতে চাই। আমাদের রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই কৃষিক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করা মানেই রাজ্যকে স্বনির্ভরতার পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর সেই লক্ষ্য পূরণে কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও জানান, রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর মূলত নির্দিষ্ট প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রাথমিক গ্রামীণ বাজার এবং নিয়ন্ত্রিত কৃষি বাজারগুলির উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে। বর্তমানে রাজ্যে মোট ৫৫৪টি কৃষি বাজার রয়েছে। এর মধ্যে ৮৪টি প্রাথমিক পাইকারি বাজার, যার মধ্যে ২১টি কৃষিপণ্য বাজার রয়েছে। এছাড়া রাজ্যে ৪৭০টি প্রাথমিক বা গ্রামীণ বাজার রয়েছে।
কৃষিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত আট বছরের সময়কালে রাজ্যে মোট ২০৪টি বাজারের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ৪৬১ কোটি ৮৩ লক্ষ ২ হাজার টাকা। পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে আরও ৫৮টি কৃষি বাজারের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি পূর্ববর্তী সময়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে রাজ্যে মোট ৭১টি বাজারের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় এই খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ২০ কোটি ২৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯২৪ টাকা।

গজারিয়া বাজারের নতুন পরিকাঠামো স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদী মন্ত্রী। তাঁর মতে, উন্নত বাজার পরিকাঠামো কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণনকে সহজ করবে, ব্যবসায়ীদের সুবিধা বাড়াবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এর মধ্য দিয়েই ত্রিপুরাকে কৃষিক্ষেত্রে আরও স্বনির্ভর করে তোলার পথ প্রশস্ত হবে।