৭০-৮০টি বাইক চুরির দাবি, সীমান্তপথে পাচারচক্রের তথ্য পুলিশের হাতে
কল্যাণপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর: রাজ্যজুড়ে বাইক চুরি চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল কল্যাণপুর থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সুমন দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাইক চুরি চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং তার বিরুদ্ধে রাজ্যের একাধিক থানায় মামলা রয়েছে। এনসিসি থানাতেও সে ওয়ান্টেড ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
কল্যাণপুর থানার ওসি আশীষ সরকারের নেতৃত্বে বিশেষ পুলিশ টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত সুমন দাসের দাবি, গত দুই-তিন বছরে সে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বাইক চুরি করেছে। তবে তার এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতের কাছ থেকে বাইক চুরি ও পাচার সংক্রান্ত আরও বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। তার বয়ান অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করা বাইক মধুপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে ফারুক মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বাইক হস্তান্তরের বিনিময়ে চোরাই বাইকপ্রতি প্রায় ১৫ হাজার টাকা পাওয়া যেত বলে ধৃত দাবি করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মধুপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে চোরাই বাইক বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করা হতে পারে। এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, সুমন দাসের বিরুদ্ধে এনসিসি ও পূর্ব আগরতলা থানাসহ রাজ্যের বিভিন্ন থানায় বাইক চুরির মামলা রয়েছে। এছাড়া একটি হত্যাকাণ্ডের মামলার সঙ্গেও তার নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
কল্যাণপুর থানার ওসি আশীষ সরকার জানান, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই বাইক উদ্ধার এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তল্লাশি ও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।