নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ আগস্ট: আসন্ন টিটিএএডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপি ও তাদের জোটসঙ্গী তিপ্রা মথার মধ্যে ফের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলেছে। নির্বাচনে দুই দলের জোট নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে তিপ্রা মথা এককভাবে নির্বাচনে লড়াই করতে পারে বলে জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তিপ্রা মথার প্রধান প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা, যিনি ‘বুবাগ্রা’ নামে পরিচিত, গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কিংবা জোটের স্থায়িত্বের চেয়ে তিপ্রাসা জনগোষ্ঠীর স্বার্থই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের স্বার্থে কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে কিছু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দল থেকে দূরত্ব তৈরি করতে পারেন। তবে তাতে তিপ্রাসা জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর স্বার্থে তাঁর অবস্থান থেকে তিনি সরে আসবেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন।
জানা গেছে, আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির সঙ্গে জোট ও নির্বাচনী বোঝাপড়া নিয়ে রাজ্যের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী রতন লাল নাথ এবং তিপ্রা মথার সাধারণ সম্পাদক বৃষকেতু দেববর্মার মধ্যে আলোচনা হলেও এখনও কোনও সমাধানসূত্র বের হয়নি।
আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে জোট না হলে নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এককভাবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেননি, তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। বিজেপির সঙ্গে জোট চূড়ান্ত না হলে তিপ্রা মথা নিজেদের প্রার্থী দিয়ে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে লড়াই করতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, তিপ্রাসা জনগোষ্ঠীর জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিও ফের সামনে এনেছেন তিপ্রা মথা প্রধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান তিনি।
প্রদ্যোত দেববর্মা বলেন, রাজনৈতিক চাপ এলেও তিনি সাংবিধানিক সমাধানের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক সমীকরণ কিংবা ক্ষমতার হিসাবের তুলনায় তিপ্রাসা জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্বই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেও বার্তা দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিয়ে জোটসঙ্গী হয় তিপ্রা মথা। তবে তিপ্রাসা চুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমশ প্রকাশ্যে এসেছে। এবার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।