জল সংরক্ষণ, উৎস পুনরুজ্জীবন ও ‘হর ঘর জল’ প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের বার্তা
আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: জল সংরক্ষণ, জলসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিটি মানুষের কাছে নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগের উপর জোর দিলেন ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মণ। বুধবার নয়াদিল্লির সুষমা স্বরাজ ভবনে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত দু’দিনের ‘ডিপার্টমেন্টাল সামিট অন ওয়াটার’-এ ত্রিপুরা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি. আর. পাটিলের সভাপতিত্বে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মন্ত্রী, সচিব এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা অংশ নেন। জল সংরক্ষণ, জলসম্পদের সুষ্ঠু ও টেকসই ব্যবস্থাপনা, নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জল সরবরাহ, জলাধার ও জল উৎসগুলির পুনরুজ্জীবন এবং ‘জল জীবন মিশন’-এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ত্রিপুরার অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, রাজ্যের জলক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরার জন্য এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যে সফলভাবে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যকর উদ্যোগ সম্পর্কে জানার সুযোগও মিলেছে। সেই অভিজ্ঞতা ত্রিপুরায় জলসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও টেকসই পানীয় জল নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সমাজ ও প্রতিটি নাগরিকেরও সম্মিলিত দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলসম্পদ রক্ষা করতে সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, “জলই জীবন—জল সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর জল’ বা প্রতিটি ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ভাবনার কথা উল্লেখ করে কিশোর বর্মণ জানান, ত্রিপুরা সরকার রাজ্যে জল নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ পানীয় জলের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।
সম্মেলনের আলোচনার মাধ্যমে জল ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর নীতি গ্রহণ এবং বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি বিনিময়ের পথ আরও প্রশস্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কিশোর বর্মণের বক্তব্য, জলনিরাপদ, সমৃদ্ধ ও উন্নত ভারত গড়ে তুলতে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।