২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সাফল্য মাত্র ৩১ শতাংশ; চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৩৩টি ইউনিট
আগরতলা, ২৯ আগস্ট: কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ত্রিপুরা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘স্বাবলম্বন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড়সড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৪ হাজার নতুন উদ্যোগ বা ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও বাস্তবে তৈরি হয়েছে মাত্র ১,২৪১টি ইউনিট। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩১ শতাংশ পূরণ হয়েছে। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ২,৭৫৯টি ইউনিটের।
আরও উদ্বেগের বিষয়, চলতি অর্থবর্ষেও প্রকল্পের বাস্তবায়নের গতি এখনও ধীর। একইভাবে ৪ হাজার ইউনিট স্থাপনের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৩টি ইউনিট স্থাপিত হয়েছে। যদিও শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে যে সময়সীমার তথ্য বিধানসভায় দেওয়া হয়েছে, তা পুরো অর্থবর্ষের চূড়ান্ত চিত্র নয়।
গত ২৭ আগস্ট ত্রিপুরা বিধানসভায় বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথের প্রশ্নের উত্তরে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভালো ফলাফল দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃজন কর্মসূচি (PMEGP)-এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৬৭৯টি ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫৭৩টি ইউনিট স্থাপিত হয়েছে। অর্থাৎ এই প্রকল্পে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৪ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
অন্যদিকে, PM Formalisation of Micro Food Processing Enterprises (PMFME) প্রকল্পের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে ত্রিপুরা। Individual Credit Linked Subsidy-এর আওতায় ৭০টি ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাস্তবে ১৪৪টি ইউনিট স্থাপিত হয়েছে।
স্বাবলম্বন প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও গতিশীল করতে সরকার বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা কর্মসূচি এবং ব্যাংকগুলির সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। উপভোক্তাদের কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং ঋণ অনুমোদন ও নতুন ইউনিট স্থাপনের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে নিয়মিত ব্যাংকারদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকও করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে TIDC-এর ৪২টি কাজের প্যাকেজে আর্থিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় ১৫টি প্যাকেজের জন্য ৫৬০.৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। পাশাপাশি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আরও ১৮টি প্যাকেজে ১০৯.৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।
বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেও রাজ্য সরকার বেঙ্গালুরু, মুম্বই, চেন্নাই, কলকাতা, গুয়াহাটি ও হায়দরাবাদে বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রচার কর্মসূচি চালিয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলনেও অংশ নিয়েছে রাজ্য।