উৎসবের মরশুমে মাথাপিছু অন্তত ৫০০ গ্রাম চিনি সরবরাহের দাবি; মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ পদক্ষেপ চাইল দল
আগরতলা, ২৯ আগস্ট: দেশজুড়ে চিনির দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারকে নিশানা করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। চিনির বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’-র অভিযোগ তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। একই সঙ্গে উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ কমাতে রেশন দোকানের মাধ্যমে অবিলম্বে চিনি সরবরাহের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।
শনিবার আগরতলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রবীর চক্রবর্তী দাবি করেন, চলতি বছরে দেশে চিনির মজুত আগের অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় ৩ লক্ষ মেট্রিক টন কম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ISMA) গত বছর প্রায় ২৭৫ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। অন্যদিকে সরকার প্রায় ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন উৎপাদনের হিসাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে অর্জিত হয়নি বলেই দাবি করেন তিনি।
দেশে প্রতি মাসে সাধারণত প্রায় ২৪ লক্ষ টন চিনির প্রয়োজন হয়। উৎসবের মরশুমে সেই চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টনে পৌঁছায় বলে দাবি করেন কংগ্রেস মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, এর মধ্যেই খুচরো বাজারে চিনির দাম প্রায় ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭৭ টাকা প্রতি কেজি হয়েছে।
চক্রবর্তীর দাবি, চার মাসে প্রায় ১২০ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি যদি বাড়তি দামে বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতি নীতিগত ব্যর্থতার ফল, নাকি এর পিছনে সংগঠিত আর্থিক অনিয়ম রয়েছে—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে চিনির উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত গোটা সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বেশি স্বচ্ছতা আনার দাবি জানান।
গত ২০ আগস্ট ব্রাজিল থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। প্রবীর চক্রবর্তীর যুক্তি, সমুদ্রপথে আমদানি করা চিনি দেশে পৌঁছাতে প্রায় ৪০-৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর প্রক্রিয়াকরণে আরও প্রায় ১৫ দিন প্রয়োজন হলে উৎসবের মরশুমে এই আমদানি সাধারণ মানুষের বাজারদরে কতটা স্বস্তি দেবে, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, উৎসবের সময় রাজ্যের প্রতিটি রেশন দোকানের মাধ্যমে মাথাপিছু অন্তত ৫০০ গ্রাম চিনি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মজুতদারি, কালোবাজারি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিয়ম রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে সমন্বিতভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিনির পাশাপাশি বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন কংগ্রেস মুখপাত্র। জনবণ্টন ব্যবস্থায় চালের বরাদ্দ কমে যাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি নিয়েও কটাক্ষ করে চক্রবর্তী এটিকে রাজনৈতিক ‘জুমলা’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রচারনির্ভর রাজনীতি না করে সাধারণ মানুষের আর্থিক দুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের আর্থিক সমস্যার সমাধানে ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চলতি বিধানসভা অধিবেশনকে কাজে লাগিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ও জনজীবনের আর্থিক সংকট নিয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।
📰 ক্যাপশন:
“চিনির দামে আগুন, সরব কংগ্রেস—৪৫ থেকে ৭৭ টাকা! উৎসবের আগে রেশনে মাথাপিছু ৫০০ গ্রাম চিনি দেওয়ার দাবি।”