Home আগরতলাপ্রতিটি বিনিয়োগ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

প্রতিটি বিনিয়োগ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

by Debasish
0 comments 4 views

আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর : ত্রিপুরায় বিনিয়োগের যে বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে, তাকে দ্রুত বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রূপ দিতে হবে। প্রতিটি বিনিয়োগ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করতে হবে। ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্রগুলির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা বিভিন্ন দপ্তরের অধিকারিকদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন।
আজ সচিবালয়ের ২ নং কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের জিএসডিপি বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
বৈঠকের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব তথা শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে স্বচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬-এর পরবর্তী পর্যায়ে মৌ-গুলির অগ্রগতি, বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তুলে ধরেন। পাশাপাশি ত্রিপুরায় শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র এবং রাজ্যের নিজস্ব সম্পদ ও পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরির বিভিন্ন দিকের উপর আলোকপাত করেন।
বৈঠকে বিভিন্ন দপ্তরের সচিবগণ তাঁদের দপ্তরের আওতাধীন মৌ স্বাক্ষর ও বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলির বর্তমান অবস্থা, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রস্তাব ও ডিপিআর সংগ্রহ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬ -এর মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ৪৫৮টি মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ত্রিপুরাকে বিনিয়োগ ও শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, রাজ্যের পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ, ডেয়ারি, লাইভস্টক, ইভি চার্জিং সহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ত্রিপুরার প্রাকৃতিক ও কৃষিজ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্প গড়ে তোলার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। বিনিয়োগ বাস্তবায়নে জমি, বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি দপ্তরে নির্দিষ্ট নোডাল অফিসার রেখে তাঁদের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আন্তঃদপ্তরীয় সমন্বয় নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করার উপরও গুরুত্ব দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। মৌ স্বাক্ষরের পর তার বাস্তবায়নই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান এবং প্রকল্পগুলিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বৈঠকে মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা বলেন, বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলির ক্ষেত্রে নিয়মিত ফলো-আপ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রেখে জমি, পরিকাঠামো, অনুমোদন সহ বিভিন্ন বিষয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

You may also like

Leave a Comment