দ্বিতীয় দিনেই মনোনয়ন জমায় এগিয়ে কংগ্রেস! ২১টি সংস্থায় মোট ২৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা, আগরতলা পুর নিগমে নতুন করে ৪৩টি মনোনয়নপত্র দাখিল
আগরতলা, ২ নভেম্বর: ত্রিপুরার ২১টি পুর ও নগর সংস্থার সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। দুই দিনে রাজ্যের ২১টি আরবান লোকাল বডিতে মোট ২৪১ জন প্রার্থীর পক্ষ থেকে ৩২৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সোমবার মনোনয়ন জমার দ্বিতীয় দিনে ২০৭ জন প্রার্থীর কাছ থেকে মোট ২৫৪টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ২ নভেম্বরের দৈনিক মনোনয়ন সংক্রান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২১টি পুর ও নগর সংস্থার মোট ৩৪৫টি ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মনোনয়ন জমার ক্ষেত্রে কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে। সোমবার কংগ্রেসের ১৮৬ জন প্রার্থী মোট ২৩২টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে সিপিআইএমের ১২ জন প্রার্থীর পক্ষ থেকে জমা পড়েছে ১৩টি মনোনয়নপত্র। এছাড়া অন্যান্য দলের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জমা পড়েছে ৯টি মনোনয়নপত্র। তবে সোমবার বিজেপি, আইপিএফটি এবং তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে কোনও মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি।
এদিকে দুই দিনের সম্মিলিত পরিসংখ্যানে সিপিআইএমের ২১৮ জন প্রার্থীর নামে ৩০০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। কংগ্রেসের ১২ জন প্রার্থীর নামে ১৩টি এবং অন্যান্য বিভাগের ১১ জন প্রার্থীর নামে ১১টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
পুর ও নগর সংস্থাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সোমবার সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে কৈলাসহর পুর পরিষদে। সেখানে ১৮ জন প্রার্থীর পক্ষ থেকে জমা পড়েছে ৩৫টি মনোনয়নপত্র। এরপর রয়েছে উদয়পুর পুর পরিষদ। সেখানে ২৩ জন প্রার্থীর পক্ষ থেকে ২৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদে ১১ জন প্রার্থীর পক্ষ থেকে ১৯টি এবং সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতে ৯ জন প্রার্থীর পক্ষ থেকে ১৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
অন্যদিকে ধর্মনগর পুর পরিষদে সোমবার নতুন করে ১০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। ফলে সেখানে দুই দিনে মোট মনোনয়নপত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫টি, প্রার্থীর সংখ্যা ২৮ জন। আগরতলা পুর নিগমে সোমবার ৩১ জন প্রার্থীর পক্ষ থেকে ৪৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। ফলে সেখানে দুই দিনে মোট ৩২ জন প্রার্থীর পক্ষ থেকে ৪৪টি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে।
তবে কমলপুর, শান্তিরবাজার, রানিরবাজার, জিরানিয়া ও মোহনপুরে সোমবার কোনও মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি।
এদিকে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার পথে সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকদের বাধা ও হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে সোমবার আগরতলায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন সিপিআইএমের নেতৃবৃন্দ। মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং অবাধে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সিপিআইএমের অভিযোগ, জিরানিয়া, রানিরবাজার ও মোহনপুরে তাদের কর্মী-সমর্থকদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাম নেতৃত্বের শঙ্কর প্রসাদ দত্ত, মানিক দে, তপন দাস-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সব মিলিয়ে পুর ও নগর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একদিকে মনোনয়ন জমার পরিসংখ্যান সামনে আসছে, অন্যদিকে বিরোধীদের তরফে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তেজনাও ক্রমশ বাড়ছে।