মারধর, ষড়যন্ত্র ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জোরদার তদন্ত; সত্য সামনে আনতে তিন দিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন
আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর: ২০২৬ সালের আগস্টে ‘স্বপ্না ফাউন্ডেশন’ পুনর্বাসন কেন্দ্রে মারধরের অভিযোগের পর তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্যের মৃত্যুর ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। ঘটনায় পুনর্বাসন কেন্দ্রটির কর্ণধারসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশি রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স (এনসিসি) থানার পুলিশ।
এনসিসি থানার ওসি পরিতোষ দাস জানান, মৃত তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্যের স্ত্রী শাহানা দাস ভট্টাচার্যের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। অভিযোগ ছিল, ‘স্বপ্না ফাউন্ডেশন’-এ তুহিনকে মারধর করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আঘাতজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের দাবি, বিএনএস-এর ১১৮(১) ও ১০৩(১) ধারায় এনসিসি থানায় মামলা নম্বর ৫৯/২০২৬ নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ‘স্বপ্না ফাউন্ডেশন’-এর কর্ণধারও রয়েছেন।
শুক্রবার অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা হয়। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত এগিয়ে নিতে তিন দিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মামলায় ফৌজদারি ষড়যন্ত্র ও চাঁদাবাজির অভিযোগ যুক্ত করার জন্যও আদালতের কাছে আবেদন করেছে পুলিশ।
তদন্ত অনুযায়ী, ৯ আগস্ট ২০২৬ তুহিনকে ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। ১৫ আগস্ট ২০২৬ তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি পরিতোষ দাস জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের হাতে এসেছে এবং তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার নেপথ্যে কী ঘটেছিল এবং আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
আটজন গ্রেপ্তারের পর মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। একইসঙ্গে মারধর, ষড়যন্ত্র ও চাঁদাবাজির অভিযোগের দিকগুলিও তদন্ত করছে পুলিশ।