আগরতলা, ২৩ আগস্ট: সামান্য কারণে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে বেত দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল সাব্রুম বিদ্যাজ্যোতি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মারধরের পর ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ১৯ আগস্ট সাব্রুম থানায় মামলা করেছেন ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, কলাছড়া বাজার সংলগ্ন মনসিং পাড়ার বাসিন্দা বিকাশ ত্রিপুরা (১৩) সাব্রুম বিদ্যাজ্যোতি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। গত ১১ আগস্ট, মঙ্গলবার দ্বিতীয় পিরিয়ডে সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে কম্পিউটার শিক্ষক প্রতীক চক্রবর্তী প্রবেশ করেন। ক্লাস চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের হ্যান্ডরাইটিং পরীক্ষা করার সময় বিকাশের খাতার নিচে খাবারের মিমি দেখতে পান শিক্ষক। বিকাশ সেটি জানালা দিয়ে ফেলে দিতে গেলে শিক্ষক তাকে ডাকেন।
এরপর শিক্ষক প্রতীক চক্রবর্তী একাধিক বেত দিয়ে বিকাশকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পরিবারের। বাড়িতে ফিরে বিকাশ বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরিবারের দাবি, প্রচণ্ড ব্যথার কারণে ওই রাতে ছাত্রটি ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেনি।
পরদিন, ১২ আগস্ট দুপুরে আহত বিকাশকে নিয়ে তার অভিভাবকরা স্কুলে উপস্থিত হন। বিষয়টি স্কুলের প্রিন্সিপাল চন্দন কুমার দেবনাথকে জানানো হলে তাঁর অফিসে অভিযুক্ত শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়। আলোচনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ বিকাশের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব নেয় বলে পরিবারের দাবি।
তবে পরবর্তীতে বিকাশের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরিবারের সদস্যরা কলাছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। পরিবারের অভিযোগ, এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ছাত্রটির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে কেউ যোগাযোগ করেননি।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ১৯ আগস্ট সাব্রুম থানায় মামলা করেন বিকাশের পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের দাবি, মামলা করার খবর পাওয়ার পর স্কুলের প্রিন্সিপালসহ আরও তিন শিক্ষক-শিক্ষিকা বিকাশের কলাছড়ার বাড়িতে যান এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পরিবারের প্রশ্ন, ঘটনার পর এতদিন ছাত্রের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া হয়নি কেন? তাঁদের দাবি, একজন শিক্ষকের হাতে ছাত্রকে এভাবে মারধরের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায়ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রতীক চক্রবর্তী বা স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।