আগরতলা: সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণকার্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। তিনি নিজেও সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন বলে জানান।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টির জেরেই রাজ্যের নিম্নাঞ্চলগুলিতে জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। হাওড়া, গোমতীসহ বিভিন্ন নদীর জলস্তরের উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের বিভিন্ন দল বোট নিয়ে উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমানে মানুষের জীবন রক্ষা, উদ্ধার এবং প্রাথমিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধার ও ত্রাণকার্য সম্পন্ন হওয়ার পর বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র খতিয়ে দেখা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, পৃথক রাজ্যের দাবিকে ঘিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দাবি ও কর্মসূচি থাকতে পারে। সেটি তাদের রাজনৈতিক বিষয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাই প্রধান অগ্রাধিকার।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বন্যা পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি।