আগরতলা, ২৩ আগস্ট: পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির জেরে হাওড়া নদী ও কাটাখালের জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার একাধিক নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে নৌকায় করে শ্রীলঙ্কা বস্তি এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য পরিদর্শন করলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
গতকাল বরমুড়া পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বর্ষণের পর পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে হাওড়া নদী ও কাটাখালের জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সদর ও জিরানীয়া মহকুমার শ্রীলঙ্কা বস্তি, প্রতাপগড়, ইন্দ্রনগর, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, বলদাখালসহ পার্শ্ববর্তী নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকে পড়ে। বৃষ্টি থামার পরও পাহাড়ি ঢলের কারণে বেশ কিছু এলাকায় জলস্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।
বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনের সময় জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জলমগ্ন এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌকা ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করে দুর্গত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলাশাসক জানান, আকস্মিক বন্যায় আনুমানিক ৮০০ থেকে ১,০০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই সদর মহকুমায় ৬টি এবং জিরানীয়া মহকুমায় ৩টি ত্রাণশিবির চালু করা হয়েছে। সেখানে ১২০টিরও বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে অতিরিক্ত ২-৩টি ত্রাণশিবির চালু করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উদ্ধার ও ত্রাণকার্যে এসডিআরএফ জওয়ান, সিভিল ভলান্টিয়ার, আগরতলা পুরনিগমের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে কাজ করছেন। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জেলাশাসক জানান, এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। জল নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাহায্য ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে, পাহাড়ি ঢল ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধিতে আতঙ্ক ছড়ালেও প্রশাসনের দ্রুত তৎপরতায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকার্য অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনে আরও উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণশিবির বাড়ানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।