Table of Contents
আগরতলা, ২৩ আগস্ট: প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের জেরে ত্রিপুরার একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পশ্চিম ত্রিপুরা ও খোয়াই জেলায় মোট ৪১০টি পরিবারের ১,৩৫২ জন মানুষ ১৭টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজ্য ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (SEOC) প্রকাশিত ডিটেইলড ডেইলি সিচুয়েশন রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় মোট ১১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে, একটি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১১৩টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর নেই। বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা স্কুল ভবনেরও কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পশ্চিম ত্রিপুরায় একাধিক এলাকায় জলবন্দি
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জিরানিয়া ও সদর মহকুমায় বন্যার কারণে বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জিরানিয়ার সাতটি ত্রাণশিবিরে ১২০টি পরিবারের ২৮৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে কাওয়াবান দ্রুবতারা ক্লাবের ত্রাণশিবিরে একাই ৪৫টি পরিবারের ১১২ জন রয়েছেন।
সদর মহকুমার পাঁচটি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন আরও ৮৭টি পরিবারের ৩৩০ জন।
মোহনপুরে ২২ আগস্টের ভারী বৃষ্টিতে ২২টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
খোয়াইয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
খোয়াই জেলাতেও বন্যার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তেলিয়ামুড়ায় একটি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে দুটি ত্রাণশিবিরে ৫০টি পরিবারের ১৭৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
খোয়াই মহকুমায় ৯১টি বাড়ি আংশিক এবং একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে তিনটি ত্রাণশিবিরে ১৫৩টি পরিবারের ৫৫৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
বিপৎসীমার উপরে হাওড়া ও বিজয় নদীর জল
নদীগুলির জলস্তরও প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আগরতলার জহর সেতুতে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে হাওড়া নদীর জলস্তর ১১.১৬ মিটার, যা ১১ মিটারের সংকটসীমার উপরে। খোয়াইয়ে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে খোয়াই নদীর জলস্তর ছিল ২২.৫০ মিটার, যা প্রত্যাশিত বন্যার স্তরে রয়েছে।
এদিকে বিশালগড়ের লক্ষ্মীবিলে বিকেল ৫টায় বিজয় নদীর জলস্তর ১২.৩৫ মিটার রেকর্ড হয়েছে, যা প্রত্যাশিত বন্যার স্তরের উপরে।
লেম্বুছড়ায় ২১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। লেম্বুছড়ায় সর্বোচ্চ ২১৮ মিলিমিটার, বুধজংনগরে ১৭৭ মিলিমিটার এবং আগরতলা বিমানবন্দর এলাকায় ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।
খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়ায় ১২৯ মিলিমিটার এবং তুলাশিখরে ১২৪.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ধলাই জেলার আমবাসায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৯৩ মিলিমিটার।
আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট সকাল পর্যন্ত ত্রিপুরার বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর, ঊনকোটি, ধলাই, খোয়াই, পশ্চিম ও গোমতী জেলার এক-দুই জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
এর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে নদী ও নিচু এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।