নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা: রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি, আগামী দিনেও শূন্যপদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক সংকট দূর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষে রাজ্যে মোট ৪,৮৭৯ জন স্নাতক ও অস্নাতক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সাল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিকারের আওতায় ১,৪১৩ জন PGT, ১,৪৭১ জন GT, ১৪৫ জন স্পেশাল এডুকেটর, ১১৭ জন স্কুল লাইব্রেরিয়ান এবং ১০৫ জন ফিজিক্যাল এডুকেশন টিচার নিয়োগ করা হয়েছে।
আগামী দিনের নিয়োগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এলিমেন্টারি ও সেকেন্ডারি স্তরের শূন্যপদ পূরণের জন্য TRBT-র কাছে ইতিমধ্যেই রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে। ৩৫২টি প্রি-প্রাইমারি শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি TET-1-এর মাধ্যমে ১,০৩৬টি এবং TET-2-এর মাধ্যমে ১,০২০টি শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে।
STGT-এর ক্ষেত্রেও ৭০০টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে আইনি জটিলতা ও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আরও ২৩০টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রয়েছে।
শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর, বিশেষ করে বালিকা বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ ও ব্ল্যাকবোর্ডের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি পড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মিড-ডে মিলের গুণগত মান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী ডিমসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার সঠিকভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা বলেন, উপযুক্ত যোগ্যতা, নিয়োগের নিয়ম, প্রশাসনিক প্রয়োজন ও বাজেটের বিষয় বিবেচনা করে ধাপে ধাপে শূন্যপদ পূরণ করা হবে। আইনি বিধি মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।