Home আগরতলাআইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা, বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা

আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা, বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা

by Debasish
0 comments 19 views

দ্রুত এফআইআর, বৈজ্ঞানিক তদন্ত, সাইবার অপরাধ দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব; CCTV, ড্রোন ও বডি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা

আগরতলা, ৩১ আগস্ট: রাজ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে পাঁচ বছরের রোডম্যাপ তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। সোমবার ত্রিপুরা বিধানসভায় এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। বিধায়ক মাইলাফ্রু মগের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত তদন্ত এবং পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন ফৌজদারি আইনগুলির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দ্রুত এফআইআর নথিভুক্তকরণ, অপরাধের বৈজ্ঞানিক তদন্ত এবং দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভ্যাসগত অপরাধীদের উপর নজরদারি

পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় অভ্যাসগত অপরাধী এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিদের উপর নজরদারি আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি গাঁজা চাষ এবং অবৈধ মাদক পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মাদকবিরোধী ও নেশামুক্তি কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিএসএফের সঙ্গে যৌথ টহল আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

CCTV থেকে ড্রোন—প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে

প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এজন্য CCTNS, ICJS, e-FIR, সাইবার পুলিশিং, CCTV নজরদারি, বডি-ওর্ন ক্যামেরা, e-Sakshya, NAFIS, ড্রোন এবং Integrated Traffic Management System (ITMS)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো হবে।

পুলিশকর্মীদের তদন্ত, সাইবার অপরাধ, ফরেনসিক প্রযুক্তি এবং জনসংযোগের বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষ নজর

বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধের প্রবণতা মোকাবিলায় রাজ্যের Cyber Crime Wing আরও শক্তিশালী করা হবে বলে জানান ড. মানিক সাহা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ধারাবাহিক প্রচার চালানো হবে।

নারী ও শিশু সুরক্ষায় জোর

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও পাঁচ বছরের রোডম্যাপে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মহিলা থানা, Women Help Desk, জরুরি পরিষেবা, ভুক্তভোগীদের সহায়তা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লিঙ্গ সংবেদনশীল পুলিশিং ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সীমান্তে নজরদারি ও পাচার রুখতে সমন্বয়

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে বিএসএফ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মানব পাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্রাফিক আইন ভাঙলেও কড়া ব্যবস্থা

সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য বহন, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং হেলমেট বা সিটবেল্ট ব্যবহার না করার মতো আইনভঙ্গের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

এক্ষেত্রে স্পিড রাডার গান, ব্রেথ অ্যানালাইজার, বডি-ওর্ন ক্যামেরা, CCTV এবং Automatic Number Plate Recognition (ANPR) প্রযুক্তি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে।

পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, পরিবহন সংস্থা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনমুখী সংগঠনের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে বলে জানান ড. মানিক সাহা।

অপরাধ দমন থেকে সাইবার নিরাপত্তা, নারী-শিশু সুরক্ষা থেকে সীমান্ত ও সড়ক নিরাপত্তা—পাঁচ বছরের এই রোডম্যাপের মাধ্যমে ত্রিপুরার পুলিশ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনমুখী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে বিধানসভায় স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

You may also like

Leave a Comment