Home আগরতলাযানজটের সমাধানে নতুন ভাবনা, আগরতলায় প্রস্তাবিত ৩.৯৮৫ কিমি ডাবল লেন ফ্লাইওভার

যানজটের সমাধানে নতুন ভাবনা, আগরতলায় প্রস্তাবিত ৩.৯৮৫ কিমি ডাবল লেন ফ্লাইওভার

by Debasish
0 comments 14 views

যানজট কমাতে ফায়ার ব্রিগেড চৌমুহনী থেকে রাধানগর পর্যন্ত নতুন উড়ালপুলের উদ্যোগ, বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা

আগরতলা, ৩১ আগস্ট: রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে ধাপে ধাপে বাকি স্টেট হাইওয়েগুলিকে ডাবল লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। পাশাপাশি আগরতলা শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট মোকাবিলায় নতুন একটি ৩.৯৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল লেন ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক তফাজ্জল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যে ২০৪.৪৫ কিলোমিটার রাস্তা ডাবল লেনে উন্নীত করা হয়েছে। বাকি স্টেট হাইওয়েগুলিকেও পরবর্তী পর্যায়ে ডাবল লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এই কাজ জমির প্রাপ্যতা এবং আর্থিক সংস্থানের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।

বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন সম্পূরক প্রশ্নে বিশ্রামগঞ্জ-মেলাঘর-সোনামুড়া-বেলোনিয়া সড়কের প্রস্তাবিত রুট পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তাঁর প্রস্তাব ছিল, রাস্তার বিকল্প রুট হিসেবে বিশালগড়, বক্সনগর ও সোনামুড়ার মধ্য দিয়ে হাইওয়ে নিয়ে যাওয়া হোক। এতে একাধিক বিধানসভা এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন এবং গোমতী নদীর বাঁধ ও বন্যাপ্রবণ এলাকার সম্ভাব্য ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশালগড়, বক্সনগর এবং আমতলী-সাব্রুম সংযোগকারী বিভিন্ন রুটকে সম্পূর্ণ ডাবল লেনে উন্নীত করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান প্রয়োজন। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন সড়কে সিঙ্গল লেন, ইন্টারমিডিয়েট লেন এবং ডাবল লেন—এই তিন ধরনের অংশ রয়েছে। প্রযুক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলিকে পর্যায়ক্রমে উন্নীত করা হবে।

এদিকে আগরতলা শহরের যানজটের সমস্যা বিধানসভায় তুলে ধরেন সিপিআই(এম) বিধায়ক দীপঙ্কর সেন। শহরে যানজট কমাতে বিদ্যমান ফ্লাইওভার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে উদয়পুর, তেলিয়ামুড়া এবং বিমানবন্দরের সঙ্গে মেট্রো যোগাযোগের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব দেন তিনি।

এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিমানবন্দর থেকে আমতলীর দিকে বিদ্যমান ফ্লাইওভার সম্প্রসারণের কোনও প্রস্তাব পূর্ত দফতরের হাতে নেই। তবে আগরতলায় একটি নতুন ৩.৯৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল লেন ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে।

প্রস্তাবিত ফ্লাইওভারটি ফায়ার ব্রিগেড চৌমুহনী থেকে শুরু হয়ে CAD চৌমুহনী, শঙ্কর চৌমুহনী ও দুর্গা চৌমুহনী হয়ে কাটারতল অতিক্রম করে রাধানগর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাওয়ার কথা। এর পাশাপাশি বাত্তলা এলাকার দিকেও প্রবেশ ও বেরোনোর সংযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত ফ্লাইওভারের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিস্তারিত নকশা, টিপিক্যাল ক্রস-সেকশন, প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ এবং জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে। অর্থ দফতরের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে যানজট নিরসনে আইজিএম চৌমুহনী থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত ২.৯০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ছিল প্রায় ৫৯৩.৩৩ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের জন্য ৬৫ কোটি টাকা অনুমোদনও করা হয়েছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত পথে বিপুল সংখ্যক বিদ্যমান ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় সরকার বিকল্প রুট নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে তিপ্রা মথার বিধায়ক সঞ্জয় ত্রিপুরা করবুক-শান্তিরবাজার এবং তীর্থমুখ-গন্ডাছড়ার মধ্যে সংক্ষিপ্ত রাস্তাগুলিকে ডাবল লেনে উন্নীত করার দাবি জানান। এসব সড়কের উন্নয়ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াতের দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে তিনি জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শান্তিরবাজার (NH-08)-NH-208 সংযোগকারী সড়কের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)-এর কাছে অর্থায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বিধানসভায় আমবাসা-গন্ডাছড়া, থালছড়া হয়ে গন্ডাছড়া-আমরপুর এবং জম্পুইজলা হয়ে চম্পকনগর-উদয়পুর সড়ক ডাবল লেনে উন্নীত করার বিষয়েও বিভিন্ন বিধায়ক প্রশ্ন তোলেন।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শুধুমাত্র দাবি উঠলেই কোনও সড়ক প্রশস্ত করা হবে না। নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং যানবাহনের চাপের ভিত্তিতেই সড়ক উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান রোডস কংগ্রেসের (IRC) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী Passenger Car Unit (PCU)-এর মাত্রা বিবেচনা করা হয়। যানবাহনের চাপ অনুযায়ী কোনও রাস্তা সিঙ্গল লেন, ইন্টারমিডিয়েট লেন, ডাবল লেন কিংবা আরও প্রশস্ত করার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা হয়।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন সড়ক ও যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রস্তাব সরকার গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করবে। যানবাহনের চাপ, প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা, জমির প্রাপ্যতা এবং আর্থিক সংস্থানের বিষয়গুলি বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

You may also like

Leave a Comment