মাস্টারপাড়ার বাসিন্দাকে মূলচক্রী হিসেবে সন্দেহ, জিজ্ঞাসাবাদে মিলতে পারে আন্তঃরাজ্য চক্রের হদিস
আগরতলা, ১৫ সেপ্টেম্বর: আগরতলা রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে ফেন্সিডিল পাচারকাণ্ডের তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল ত্রিপুরা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। মঙ্গলবার আগরতলা থেকে মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা চন্দন বর্মনকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী দল। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, এই পাচারচক্রের অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে তিনি জড়িত থাকতে পারেন।
গ্রেফতারের পর চন্দন বর্মনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। কোথা থেকে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের চালান আসত, কারা তা পরিবহণ করত এবং আগরতলায় কারা সেই চালান গ্রহণ করত—এই গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধানেই জোর দিয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তদন্তকারীদের অনুমান, চন্দনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে।
এই মামলার সূত্রপাত গত ২ জুলাই, আগরতলা রেলস্টেশনের পার্সেল ভ্যানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ এস্কুফ কাশির সিরাপ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রথম অভিযানে ডিআরআই আধিকারিকরা অসম রাইফেলস ও আরপিএফের সহযোগিতায় প্রায় ৫৫,৬২৬টি ১০০ মিলিলিটারের এসকুফ সিরাপের বোতল উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ৬ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকারও বেশি। তদন্তে জানা যায়, ওই চালানটি বিহারের কাটিহার থেকে এসেছিল বলে অভিযোগ।
ওই চালান গ্রহণ করতে আসার অভিযোগে ৩৪ বছর বয়সি সুব্রত দেবকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। একই দিনে পরবর্তীতে আরও একটি, তুলনামূলকভাবে বড় চালান উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
পরপর বিপুল পরিমাণ এসকুফ উদ্ধারের ঘটনায় ত্রিপুরার রেলপথকে ব্যবহার করে সক্রিয় একটি সংগঠিত আন্তঃরাজ্য ফেন্সিডিল পাচারচক্রের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। এর আগেও জিরানিয়া রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার এসকুফের চালান উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনাতেও একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
বর্তমানে ক্রাইম ব্রাঞ্চ পুরো পাচারচক্রের শিকড় খুঁজতে তদন্ত চালাচ্ছে। সরবরাহকারী থেকে শুরু করে চালান গ্রহণকারী, পরিবহণকারী এবং এই কাজে সহযোগিতাকারী ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চন্দন বর্মনের জিজ্ঞাসাবাদে এই আন্তঃরাজ্য ফেন্সিডিল পাচারচক্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।