Home আগরতলা“ত্রিপুরাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়, অতীত স্মরণ করেই ভবিষ্যৎ গড়তে হবে”: বিপ্লব দেব

“ত্রিপুরাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়, অতীত স্মরণ করেই ভবিষ্যৎ গড়তে হবে”: বিপ্লব দেব

by Debasish
0 comments 7 views

সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে সংবর্ধনা সভায় আবেগ ও প্রত্যয়ের বার্তা, কর্মীদের ত্যাগ স্মরণ করে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান

আগরতলা, ৩০ আগস্ট : সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবার ত্রিপুরায় ফিরে দলের সংবর্ধনা সভায় আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন পশ্চিম ত্রিপুরার সাংসদ তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। একদিকে ত্রিপুরার প্রতি নিজের আবেগ ও আত্মপরিচয়ের কথা তুলে ধরলেন, অন্যদিকে দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কর্মীদের ত্যাগ ও শহিদদের আত্মবলিদান স্মরণ করে ভবিষ্যতের জন্য সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানালেন।

ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় বিপ্লব দেব বলেন, “সর্বভারতীয় রাজনীতি বা কোনো উচ্চপদে পৌঁছানোই নয়, আমার নামের পাশে ‘ত্রিপুরা’ ব্র্যাকেটে লেখা থাকাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” মাতা ত্রিপুরা সুন্দরীকে প্রণাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করে তিনি বলেন, দেশের যে প্রান্তেই দায়িত্ব পালন করতে যান না কেন, ত্রিপুরার পরিচয় তাঁর সঙ্গে সবসময় থাকবে।

তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা, বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য-সহ একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘এই সাফল্য আমার একার নয়’

নিজের রাজনৈতিক জীবনের পথচলার কথা স্মরণ করে বিপ্লব দেব বলেন, স্কুল-কলেজে পড়ার সময় কখনও ভাবেননি যে একদিন বিধায়ক, সাংসদ কিংবা মুখ্যমন্ত্রী হবেন। দলের সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে তৃণমূল স্তরের নেতৃত্বের দীর্ঘ পরিশ্রম ও মানুষের সমর্থনের মধ্য দিয়েই তিনি আজ সর্বভারতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “এই সফলতা আমার একার নয়।” পৃষ্ঠা প্রমুখ, শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ থেকে শুরু করে দলের অগণিত সাধারণ কর্মী এবং ত্রিপুরার মানুষের অবদানের ফলেই এই সম্মান এসেছে বলে জানান তিনি। নিচুতলার কর্মীদের ত্যাগ ও নিষ্ঠাকেই দলের সাংগঠনিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন বিপ্লব দেব।

অতীত ভুলে গেলে ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব নয়

সংবর্ধনা সভায় দলের কর্মীদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন বিপ্লব দেব। তাঁর কথায়, “যে অতীতকে স্মরণ করে, সে-ই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে। আর যে অতীত ভুলে যায়, সে অতীতের বা বর্তমানের এক অতিথি হয়েই থেকে যায়।”

ত্রিপুরায় বিজেপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের সংগঠন একদিনে তৈরি হয়নি। বহু কর্মীর নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে সংগঠন শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে। সেই ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না বলেও কর্মীদের সতর্ক করেন তিনি।

শহিদ কর্মীদের আত্মত্যাগ স্মরণ

বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। বাম আমলে নিহত জনজাতি নেতা এবং আগরতলার দলীয় প্রার্থী শ্যামহরি শর্মার মতো শহিদ কর্মীদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিপ্লব দেব।

তিনি বলেন, “আমি দলের সাধারণ কর্মীদের কাছে আজীবন ঋণী।” শহিদ পরিবারগুলোর আত্মত্যাগ এবং নিঃস্বার্থ কর্মীদের পরিশ্রমের ওপর দাঁড়িয়েই দলের আজকের সাফল্য এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ত্রিপুরায় রাজনৈতিক সহিংসতার বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিপ্লব দেব দাবি করেন, অতীতের মতো রাজনৈতিক হত্যা ও সহিংসতার পরিবেশ বর্তমানে নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মোদী-শাহের নেতৃত্বের প্রশংসা

সর্বভারতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন বিপ্লব দেব। অমিত শাহকে বিজেপির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে ‘আধুনিক রাজনীতির চাণক্য’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বিপ্লব দেবের দাবি, মোদী-শাহের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক কৌশলের কারণে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে সর্বভারতীয় স্তরে সংগঠনকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যের কথাও উঠে আসে।

ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বে সংগঠন শক্তিশালী করার বার্তা

এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা, রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায় এবং দলের অন্যান্য নেতৃত্বের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগামী দিনে ত্রিপুরা ও বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেন বিপ্লব দেব।

You may also like

Leave a Comment