আগরতলা, ৩১ অক্টোবর: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করে তুলতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং কাগজবিহীন হাসপাতাল ব্যবস্থা চালুর পথে এগোচ্ছে ত্রিপুরা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১০০ শতাংশ হাসপাতালকে ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (IHMIS)-এর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার এমনটাই জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে।
এদিন আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সচিব। হাসপাতালের পরিষেবার ডিজিটালাইজেশন এবং আইএইচএমআইএস ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক্যাল কর্মী ও ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কিরণ গিত্তে জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হাসপাতালের প্রতিটি পর্যায়ে ডিজিটাল পরিষেবা চালু করে কাগজপত্রের ব্যবহার কমানো এবং রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করে তোলা। তাঁর কথায়, ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
ডিজিটাল হাসপাতাল ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে আগরতলার ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সিভিল হাসপাতালের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জানান, হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই কাগজবিহীন পরিষেবার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে বহির্বিভাগের (OPD) রেজিস্ট্রেশন, টোকেন তৈরি, রোগী ভর্তি, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, ওষুধ সরবরাহ থেকে শুরু করে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার যাবতীয় কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। এমনকি রোগীরা নিজেদের মোবাইল ফোনেই চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট পেয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য সচিব আরও জানান, চিকিৎসকরা ট্যাবের মাধ্যমে রোগীদের পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস দেখতে পারবেন। পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতেই ওষুধ ও বিভিন্ন পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারবেন। এর ফলে চিকিৎসা পরিষেবায় সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও অনেকটা কমবে।
ব্যাংকিং, রেল ও বিমান পরিষেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থার সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও একই ধরনের দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে আসতে চাইছে রাজ্য সরকার।
এদিন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় আয়ুষ্মান ভারত হেলথ অ্যাকাউন্ট (ABHA) নম্বরের সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংযুক্ত করার বিষয়ে। স্বাস্থ্য সচিবের মতে, এর ফলে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার নথি, পরীক্ষার রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন, এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যানের তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে। কোনও রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হলেও নতুন করে সমস্ত কাগজপত্র বহন করার প্রয়োজন হবে না।
উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, গোমতী জেলা থেকে কোনও রোগীকে যদি আগরতলার এজিএমসি অথবা জিবিপি হাসপাতালে রেফার করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে শুধু রোগীর এবিএইচএ নম্বর দিলেই চিকিৎসকরা তাঁর পূর্ববর্তী চিকিৎসার যাবতীয় তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে দেখতে পারবেন।
এই ব্যবস্থার সুবিধা গ্রহণের জন্য সাধারণ মানুষকে এবিএইচএ নম্বর তৈরি করার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেই নম্বর ব্যবহার করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য সচিব। হাসপাতালের টোকেন তৈরি, ভর্তি, ছাড়পত্র এবং বিভিন্ন চিকিৎসা পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এই নম্বর ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
বৈঠকে মূলত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আইএইচএমআইএস ব্যবস্থার সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা এবং সর্বাধিক সংখ্যক রোগীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথি এই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে জানান, স্বাস্থ্য পরিষেবার ডিজিটালাইজেশনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো চিকিৎসার গুণগত মান বৃদ্ধি করা এবং রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে আরও উন্নত, সহজলভ্য ও আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।