আগরতলা, ৩১ অক্টোবর: জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (NPR) এবং জনগণনা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা দুর্বল করার চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা। এমনই অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ ও বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার দেব।
শনিবার আগরতলায় বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা দূর করো’ পদযাত্রায় বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। অথচ বিরোধী নেতারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি দিল্লির যন্তর মন্তরেও আন্দোলন করে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন ও জনগণনা নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির প্রসঙ্গ তুলে বিপ্লব দেব বলেন, এই বিষয়গুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই সংসদের উভয় কক্ষে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী দলের নেতারাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাহলে এখন নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে বিপ্লব দেব বলেন, জাতীয় জনগণনা কিংবা এনপিআর হতে দেওয়া হবে না বলে যারা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তাঁরা আসলে কার স্বার্থে এই অবস্থান নিচ্ছেন? এদিন বক্তব্যে গান্ধী পরিবারকেও আক্রমণ করেন তিনি। রাহুল গান্ধীকে ‘ডুপ্লিকেট গান্ধী’ বলে কটাক্ষ করে প্রস্তাবিত জাতিভিত্তিক জনগণনায় তাঁর পরিচয় কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপির এই নেতা। গান্ধী পদবির উৎস নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার প্রসঙ্গ টেনে বিপ্লব দেব বলেন, শুধু অন্য কারও পদবি গ্রহণ করলেই সমাজের চোখে একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় বদলে যায় না।
আগরতলায় এদিনের বিশাল জনসমাগমকে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন বিপ্লব দেব। তাঁর দাবি, এই পদযাত্রায় মানুষের উপস্থিতি বিশালগড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই জনসমাগমই রাহুল গান্ধী ও বিরোধী নেতাদের উদ্দেশে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি যুবক ও নাগরিক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি, ভারতীয় সংবিধান এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের আদর্শের পাশে রয়েছেন। বিজেপি কর্মীরা দেশের স্বার্থ ও জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ষড়যন্ত্র কিংবা অরাজকতা বরদাস্ত করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মাওবাদী কার্যকলাপের প্রসঙ্গ টেনে বিপ্লব দেব বলেন, মাওবাদীরা নিজেদের প্রভাব বিস্তারের দাবি করলেও তিনি এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা একসঙ্গে পথে নামলে ত্রিপুরায় ওই শক্তির কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।
এদিনের কর্মসূচিতে বিপ্লব দেবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা, মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, সুশান্ত চৌধুরী, সুধাংশু দাস-সহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন দেবনাথ ও বিপিন দেববর্মা-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।