আগরতলা, ৩১ অক্টোবর: রাজ্যের আসন্ন পুর নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে একাধিক এলাকায় শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে বাধা, হুমকি ও শারীরিক হামলার অভিযোগ তুলল ত্রিপুরা বামফ্রন্ট। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিরোধী প্রার্থীদের নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বামফ্রন্ট কমিটি।
বামফ্রন্ট কমিটির আহ্বায়ক মানিক দে স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই জিরানিয়া, কমলপুর ও মোহনপুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতিই বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার জিরানিয়া নগর পঞ্চায়েতে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরের দিকে যাওয়ার পথে বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিত কয়েকজন দুষ্কৃতীর হাতে কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। হামলার জেরে তিনি রিটার্নিং অফিসারের ডাকা বৈঠকে যোগ না দিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এমনকি শনিবারও জিরানিয়ায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ বামফ্রন্টের। সিপিআইএম প্রার্থীরা যাতে মনোনয়ন জমা দিতে না পারেন, সেজন্য রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে যাওয়ার রাস্তাগুলি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কমলপুর নগর পঞ্চায়েত এলাকায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দলীয় কার্যালয়ে একত্রিত হওয়া সিপিআইএম প্রার্থীদের ঘিরে রাখা হয় বলে অভিযোগ। মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুরুতর পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বামফ্রন্টের। একইভাবে মোহনপুর পুর পরিষদ এলাকাতেও রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে যাওয়ার রাস্তা আটকে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২১ সালের পুর নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বামফ্রন্টের অভিযোগ, সেই সময় কমলপুর, জিরানিয়া, রানিরবাজার, মোহনপুর, উদয়পুর, শান্তিরবাজার ও বিশালগড়-সহ একাধিক পুর এলাকায় বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বামফ্রন্ট।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বামফ্রন্ট কমিটি।
প্রথমত, কমলপুর, জিরানিয়া, রানিরবাজার, মোহনপুর, উদয়পুর, শান্তিরবাজার ও বিশালগড়-সহ সংশ্লিষ্ট পুর এলাকাগুলিতে বিরোধী প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থান থেকে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। মনোনয়ন জমা দিয়ে ফেরার পথেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সম্ভাব্য প্রতিহিংসামূলক হামলা এড়াতে প্রার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং বাড়িঘরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত পুর এলাকায় কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী (CPMF) মোতায়েন করার দাবি জানিয়েছে বামফ্রন্ট। পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসারদের দপ্তরে যাওয়ার সমস্ত রাস্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। বিরোধী প্রার্থীরা যাতে কোনও ধরনের ভয়ভীতি বা বাধার সম্মুখীন না হয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে বামফ্রন্ট।