দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-কাম-অতিথি নিবাসের নির্মাণকাজ, মৎস্যচাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব
ফটিকরয়, ১৪ সেপ্টেম্বর: ফটিকরয় বিধানসভা কেন্দ্রের সার্বিক উন্নয়নে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে চলেছে আধুনিক মৎস্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-কাম-অতিথি নিবাস। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই কেন্দ্র চালু হলে এলাকার মৎস্যচাষিরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও তফসিলি জাতি কল্যাণমন্ত্রী তথা ফটিকরয়ের বিধায়ক সুধাংশু দাস।
রবিবার নির্মীয়মাণ প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক, পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রকল্পের নির্মাণকাজ ঘুরে দেখার পাশাপাশি আধিকারিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। বিশেষ করে নির্মাণকাজের গুণমান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
সুধাংশু দাস বলেন, প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ফটিকরয়ের মৎস্যচাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও মৎস্যচাষের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাষিরা আরও উন্নত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আধুনিক এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হলে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থী ও অতিথিদের জন্য মানসম্মত থাকার ব্যবস্থাও নিশ্চিত হবে। এর ফলে ফটিকরয় বিধানসভা এলাকায় মৎস্যক্ষেত্রের আরও প্রসার ঘটবে এবং স্থানীয় মৎস্যচাষিদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
এদিকে মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষিদের সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উঠে আসে। জানা গেছে, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ১০ হাজার ৫৫৯ জন মৎস্যজীবীকে গোষ্ঠী দুর্ঘটনা বিমার আওতায় এনেছে। এই উদ্যোগ মৎস্যজীবী ও তাঁদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার বিজেপির ফটিকরয় মণ্ডল কার্যালয়ে আয়োজিত একটি নির্বাচনী বৈঠকেও অংশ নেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস। বৈঠকে বিভিন্ন এডিসি এলাকার জনজাতি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, জনসংযোগ এবং দলীয় কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে তৃণমূল স্তরে সাংগঠনিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা এবং জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফলে একদিকে ফটিকরয়ে মৎস্যক্ষেত্রে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ, অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি—দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গেল মন্ত্রী সুধাংশু দাসকে।